মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্পেন, বিবিসি স্পোর্ট নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে এই জয়সূচক গোলটি আসে। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস ১০৬তম মিনিটে নিখুঁত শটে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পথ সুগম করেন। উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে এই গোলটি সম্পন্ন হয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে বেশ রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে বাধ্য হয়। স্পেনের আক্রমণভাগের গতিশীল ফুটবল রুখতে গিয়ে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ৯৩তম মিনিটে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে ম্যাচের শেষভাগে একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলা লিয়োনেল স্কালোনির শিষ্যদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। স্পেনের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে লিওনেল মেসির সব ধরনের আক্রমণ দারুণভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
মহা-আকর্ষণীয় এই ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বিরতির সময় ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস-এর পরিবেশনা গ্যালারিতে দারুণ উত্তেজনা তৈরি করে। গ্যালারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো শেষ কয়েক মিনিটে আর্জেন্টিনার ১০ জন খেলোয়াড় স্পেনের রক্ষণব্যূহ ভেঙে কোনো অলৌকিক গোল ফিরিয়ে আনতে পারবেন কি না।
চলতি আসরে স্পেনের দলগত পারফরম্যান্স এবং রক্ষণভাগের অটুট দেয়াল পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই প্রতিপক্ষের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ফাইনালে ওঠার পথে তারা ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করেছিল। অপরদিকে আর্জেন্টিনা একের পর এক টাইব্রেকার এবং নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিলেও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এসে তাদের ছন্দপতন ঘটে। রেফারি স্লাভকো ভিনচিক ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখায় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই প্রবল উত্তেজনা দেখা যায়।
