মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

৪৮ দলের বিশ্বকাপ: কি পেল ফুটবল বিশ্ব, কী হারাল?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২০, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

৪৮ দলের বিশ্বকাপ: কি পেল ফুটবল বিশ্ব, কী হারাল?

ছবি : সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। বিবিসি নিউজের ফুটবল বিশ্লেষক ডেল জনসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টটি একদিকে যেমন নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে, তেমনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিল। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে কুরাকাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দলের অভিষেক ফুটবলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তবে এই সম্প্রসারণ কি ফুটবলের মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

টুর্নামেন্টের বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সমালোচকরা মনে করেন, এই বিরতি মূলত সম্প্রচারকদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া টিকিট বিক্রির আকাশচুম্বী দাম সাধারণ দর্শকদের স্টেডিয়াম থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল কি না, তা নিয়ে ফিফাকে জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়। মাঠের বাইরের রাজনীতিও এই বিশ্বকাপকে প্রভাবিত করেছে। ভিসা জটিলতা এবং ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ফ্লোরিয়ান ব্যালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করার ঘটনা টুর্নামেন্টকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিল।

ফিফা রেফারিদের প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা সময় নষ্ট কমানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু এর প্রভাব নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল নতুন সিডিং নীতি। ফিফা চেয়েছিল যেন টুর্নামেন্টের শীর্ষ চারটি দল আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং স্পেন নকআউট পর্বের শুরুর দিকে একে অপরের মুখোমুখি না হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের গ্রুপ বদল করতে হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এই নীতি মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত হিসাবকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।

কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দ্বীপরাষ্ট্রের সাফল্য এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গল্প। ৫ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের দেশ হয়েও তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে এসেছিল। তাদের গোলরক্ষক ভোজিনহার পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। যদি টুর্নামেন্টে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি না করা হতো, তবে হয়তো এমন গল্প অজানাই থেকে যেত। এই ছোট দলগুলোর সাহসিকতা গ্রুপ পর্বকে একঘেয়েমি থেকে বাঁচিয়েছিল। কারণ বড় দলগুলো অনেক ক্ষেত্রে খুব সহজেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছিল।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। ৭২টি ম্যাচ খেলার পরও মাত্র ১৬টি দল বাদ পড়াটা টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে কমিয়ে দিয়েছিল। ফিফার হেড টু হেড টাই-ব্রেকার নীতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এর ফলে গ্রুপ পর্বে বেশ কিছু ম্যাচ ড্র করার প্রবণতা দেখা গেছে, যা ফুটবল দর্শনের পরিপন্থী। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল এক বড় পরীক্ষা। একদিকে বাণিজ্যিক সাফল্য ও ব্যাপকতার দিক থেকে এটি অনন্য, অন্যদিকে ফুটবলের বিশুদ্ধতা ও মান রক্ষার প্রশ্নে এটি ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে। এই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আগামী দিনের ফুটবল আয়োজনে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা দেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

banner
Link copied!