শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

মহাজাগতিক বিস্ময়: ৬ মিনিটের জন্য অন্ধকারে ঢেকে যাবে পৃথিবী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৮, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

মহাজাগতিক বিস্ময়: ৬ মিনিটের জন্য অন্ধকারে ঢেকে যাবে পৃথিবী

২০২৭ সালের ২ আগস্ট পৃথিবীর আকাশে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যপটের অবতারণা হতে যাচ্ছে যা এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হিসেবে রেকর্ড গড়বে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর একটি বিশাল অংশ টানা ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের জন্য পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে থাকবে। সাধারণত সূর্যগ্রহণগুলো দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না কিন্তু এবারের এই গ্রহণটি তার দীর্ঘ স্থায়িত্বের কারণে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এই বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা গ্রেট নর্থ আফ্রিকান ইক্লিপস নামে অভিহিত করছেন কারণ এর পূর্ণ গ্রাসটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো থেকে দেখা যাবে।

এই গ্রহণের যাত্রাপথ হবে প্রায় ২৫৮ কিলোমিটার প্রশস্ত যা তিনটি মহাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে চাঁদের ছায়া দক্ষিণ স্পেন, উত্তর মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। এরপর এটি মধ্য মিসর, সুদান, সৌদি আরব ও ইয়েমেন অতিক্রম করে সোমালিয়ার ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের কাছে গিয়ে শেষ হবে। বিশেষ করে মিসরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর এবং লিবিয়ার বেশ কিছু মরু অঞ্চলে ৬ মিনিটের বেশি সময় ধরে পূর্ণ অন্ধকার বিরাজ করবে যা পর্যটক ও গবেষকদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করবে। আগস্ট মাসে এসব অঞ্চলে সাধারণত আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকে বলে এটি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা এই অভাবনীয় দীর্ঘ স্থায়িত্বের পেছনে বেশ কয়েকটি বিরল মহাজাগতিক কারণ চিহ্নিত করেছেন। ওই সময়ে পৃথিবী সূর্য থেকে তার কক্ষপথের সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থান বা অ্যাফেলিয়নে থাকবে যার ফলে সূর্যকে পৃথিবী থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ছোট দেখাবে। ঠিক একই সময়ে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে বা পেরিজিতে অবস্থান করবে যার কারণে চাঁদকে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় দেখা যাবে। একটি বড় আকৃতির চাঁদ যখন অপেক্ষাকৃত ছোট সূর্যকে ঢেকে দেবে তখন স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণের স্থায়িত্ব অনেক বেড়ে যাবে। এ ছাড়া এই গ্রহণটি পৃথিবীর বিষুবরেখার কাছাকাছি পথ দিয়ে অতিক্রম করায় চাঁদের ছায়া ভূ-পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে সরবে যা দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারের প্রধান কারণ।

দক্ষিণ স্পেনে দুপুর দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে এবং মিসর ও লিবিয়ায় দুপুর দুটো থেকে আড়াইটার মধ্যে এই পূর্ণ গ্রহণ দৃশ্যমান হবে বলে পেন্টাগন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নিশ্চিত করেছে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো থেকে এই বিরল দৃশ্যটি সেভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে না। কেবল ভারতের পশ্চিম প্রান্তের কিছু অঞ্চলে সূর্যাস্তের সময় সামান্য আংশিক গ্রহণ দেখা যেতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে খালি চোখে এই সূর্যগ্রহণ দেখা চোখের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এর জন্য বিশেষ সোলার ফিল্টার বা চশমা ব্যবহার করা জরুরি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই গ্রহণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর আগে ১৯৫৫ সালে ফিলিপাইনে সাত মিনিটের বেশি দীর্ঘ একটি সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। ২০২৭ সালের পর এই ধরনের দীর্ঘ স্থায়ীত্বের সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য মানবজাতিকে আবারও দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী এই মহাজাগতিক ঘটনাটি কেবল অন্ধকারের অভিজ্ঞতা দেবে না বরং এটি সূর্যের করোনা বা বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্য সরবরাহ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তটি দেখার জন্য ইতোমধ্যে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছেন যা ওই অঞ্চলের পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

banner
Link copied!