মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

মাস্ক বনাম অল্টম্যান: সিলিকন ভ্যালির দুই মহারথীর আইনি লড়াই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৪, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

মাস্ক বনাম অল্টম্যান: সিলিকন ভ্যালির দুই মহারথীর আইনি লড়াই

সিলিকন ভ্যালির দুই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এলন মাস্ক এবং স্যাম অল্টম্যানের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের তিক্ততা এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় উঠছে। মঙ্গলবার থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারকাজ। প্রায় এক মাসব্যাপী এই বিচারে নির্ধারণ হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে। এই মামলাটি মূলত মাস্কের পক্ষ থেকে করা, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে স্যাম অল্টম্যান তাকে ধোঁকা দিয়েছেন এবং ওপেনএআই-এর মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালে যখন এলন মাস্ক এবং স্যাম অল্টম্যান মিলে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে কাজ করা যা মানবতার কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তৈরি করবে। তবে মাস্কের অভিযোগ অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট মিলে এটিকে একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছেন। এলন মাস্কের আইনজীবীদের দাবি অল্টম্যান তাকে দিয়ে প্রায় ৪ কোটি ডলার অনুদান নিয়েছিলেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু বর্তমানে চ্যাটজিপিটি তৈরির পর প্রতিষ্ঠানটি মাইক্রোসফটের একটি ব্যক্তিগত ল্যাবরেটরিতে পরিণত হয়েছে বলে মাস্ক মনে করেন।

এদিকে ওপেনএআই এই অভিযোগগুলোকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মাস্ক আসলে ঈর্ষান্বিত কারণ তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেওয়ার পর এটি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। অল্টম্যানের আইনজীবীদের মতে ২০১৭ সালে মাস্ক নিজেই প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তবে তিনি চেয়েছিলেন সেটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা সিইও পদটি তার হাতে থাকবে। সেই ক্ষমতার লড়াইয়ে হেরে গিয়ে ২০১৮ সালে মাস্ক ওপেনএআই ত্যাগ করেন। ঘটনার পর থেকে মাস্ক নিজস্ব এআই স্টার্টআপ ‍‍`এক্সএআই‍‍` শুরু করলেও তা এখনো চ্যাটজিপিটির মতো জনপ্রিয়তা পায়নি।

বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স এই মামলাটি পরিচালনা করবেন এবং নয়জন জুরির একটি দল এর রায় ঘোষণা করবে। বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মাস্ক বা অল্টম্যান যত বড় বিলিয়নিয়ারই হোন না কেন আদালতে তারা কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধেও মাস্কের অভিযোগ রয়েছে যে তারা অনৈতিকভাবে ওপেনএআই-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুনাফা লুটছে। যদিও মাইক্রোসফট এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এলন মাস্ক এখন অল্টম্যানকে ওপেনএআই থেকে অপসারণ এবং তাকে দেওয়া অর্থ অলাভজনক খাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই লড়াই কেবল দুই ব্যক্তির ইগোর লড়াই নয় বরং এটি এআই বা কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) নিয়ন্ত্রণের লড়াই। এজিআই এমন এক প্রযুক্তি যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাস্ক মনে করেন এই প্রযুক্তিটি যদি কোনো একটি বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে তা মানবতার জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়; অল্টম্যান এখন মাস্ককে অনলাইনে ‍‍`স্ক্যাম অল্টম্যান‍‍` বা প্রতারক বলে ডাকার কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আদালতের ভেতরে। আগামী কয়েক সপ্তাহের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং নথিপত্র বিশ্লেষণই বলে দেবে সিলিকন ভ্যালির এই ‍‍`গডজিলা বনাম কিং কং‍‍` লড়াইয়ে জয় কার হয়।

banner
Link copied!