লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতে রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলল পেশোয়ার জালমি। ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাবর আজমের দল। এই জয়ের নেপথ্যে ছিলেন অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি, যার বল ও ব্যাটের জাদুতে কুপোকাত হয়েছে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠা হায়দরাবাদ।
ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামে হায়দরাবাদ কিংসমেন। শুরুটা মন্দ ছিল না তাদের। পাওয়ারপ্লের পরপরই ২ উইকেট হারিয়ে ৭১ রান তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু এরপরই শুরু হয় বিপর্যয়। অ্যারন হার্ডির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে হায়দরাবাদের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়ে। মাঝপথে সাইম আইয়ুবের ধৈর্যশীল ৫৪ রানের সুবাদে সম্মানজনক সংগ্রহের পথ খুঁজে পায় হায়দরাবাদ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ১৮ ওভারে ১২৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। হার্ডি একাই ২৭ রান খরচায় তুলে নেন ৪টি উইকেট।
১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাটকীয় শুরু করে পেশোয়ার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আলীর তোপে পড়ে তারা। সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ হারিস এবং স্বয়ং অধিনায়ক বাবর আজম। বাবর আজম গোল্ডেন ডাক বা প্রথম বলেই আউট হয়ে ভক্তদের হতাশ করেন। মাত্র ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন পেশোয়ার কাঁপছিল, তখন হাল ধরেন অ্যারন হার্ডি এবং আব্দুল সামাদ। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচটি হায়দরাবাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। হার্ডি ৩৯ বলে ৫৬ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন, আর সামাদ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪৮ রান।
হায়দরাবাদ কিংসমেন তাদের প্রথম সিজনেই ফাইনালে উঠে চমক দেখিয়েছিল। মারনাস লাবুশেন ও কুশল পেরেরাদের মতো তারকা থাকলেও অভিজ্ঞতার অভাবে ফাইনালে তারা খেই হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে ফিল্ডিং মিস এবং রান আউটের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। মাইকেল ব্রেসওয়েল একাই হায়দরাবাদের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে রান আউট করে ম্যাচে পেশোয়ারের আধিপত্য নিশ্চিত করেন। মোহাম্মদ আলী ৩টি উইকেট নিলেও তা হায়দরাবাদকে জয়ের জন্য যথেষ্ট পুঁজি এনে দিতে পারেনি।
২০১৭ সালে শেষবার শিরোপা জিতেছিল পেশোয়ার জালমি। এরপর থেকে প্রতিটি আসরে তারা লড়াকু পারফরম্যান্স করলেও ট্রফির দেখা পাচ্ছিল না। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে শীর্ষে থেকে কোয়ালিফায়ারে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়ে তারা ফাইনালে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২৮ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাবর বাহিনী। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ফারহান ইউসুফের বাউন্ডারিতে যখন জয় নিশ্চিত হয়, তখন পুরো লাহোর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। অ্যারন হার্ডি তার অসাধারণ অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
পেশোয়ারের এই জয় কেবল একটি শিরোপা লাভ নয়, বরং বাবর আজমের নেতৃত্বের প্রতি আস্থারও প্রতিফলন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ফাইনালে ব্যর্থ হয়েছেন, তবে দলগত প্রচেষ্টায় পেশোয়ার প্রমাণ করেছে কেন তারা পিএসএলের অন্যতম শক্তিশালী দল। অন্যদিকে হায়দরাবাদ কিংসমেন হারলেও তাদের অভিষেক মৌসুমের সাফল্যকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তারা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। আপাতত পিএসএল ২০২৬-এর শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেশোয়ার জালমির মাথায়।
