বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিমানে যাত্রীদের যে ১০টি বিরক্তিকর অভ্যাসে জরিমানা হওয়া উচিত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৮, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

বিমানে যাত্রীদের যে ১০টি বিরক্তিকর অভ্যাসে জরিমানা হওয়া উচিত

আকাশপথে ভ্রমণের সময় সহযাত্রীদের কিছু আচরণ অনেক সময়ই চরম বিরক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি আইরিশ বাজেট এয়ারলাইন ‘রায়ানএয়ার’ তাদের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রসাত্মক পোস্ট শেয়ার করে নতুন করে এই বৈশ্বিক আলোচনা উস্কে দিয়েছে। পোস্টে তারা মজা করে লিখেছে, সকাল ৬টার আর্লি-মর্নিং ফ্লাইটে যারা অনবরত অনর্থক কথা বা আড্ডা দিয়ে অন্যদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটান, তাদের জন্য খুব শীঘ্রই অতিরিক্ত জরিমানা বা চার্জ চালু করা হবে।

যদিও এটি একটি সস্তা প্রচারণামূলক কৌতুক ছিল, তবে এটি বিমানযাত্রার আসল কিছু সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিমানযাত্রীদের এমন ১০টি মারাত্মক বিরক্তিকর অভ্যাসের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলোর জন্য সত্যিই আর্থিক জরিমানা করা উচিত বলে মনে করেন নিয়মিত ভ্রমণকারীরা। এর মধ্যে প্রথমটি হলো বিমানের সরু গলিতে দাঁড়িয়ে জোর করে ওভারহেড লকারে অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগ ঢোকানোর চেষ্টা করা, যা পেছনের দীর্ঘ সারিকে আটকে রাখে। দ্বিতীয়ত, করিডোরের পাশের আসনে (আইল সিট) বসে এমনভাবে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়া যে ভেতরের উইন্ডো সিটের যাত্রীদের টয়লেটে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না। এছাড়া পেছনের যাত্রীকে কোনো কিছু না জানিয়ে আচমকা সামনের সিট সম্পূর্ণ হেলিয়ে দেওয়া বিমানযাত্রার অন্যতম বড় একটি অভদ্রতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সহযাত্রীদের আচরণ ও পারিবারিক উদাসীনতা

বিমানের ভেতর অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণও অনেক সময় সহযাত্রীদের মানসিক ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, পেছনের আসনে বসা কোনো শিশু অনবরত সামনের সিটের পিঠে লাথি মেরে চলেছে এবং অভিভাবকরা সেদিকে কোনো নজর দিচ্ছেন না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে হেডফোন ছাড়াই শিশুদের আইপ্যাডে বা ট্যাবলেটে উচ্চশব্দে গেম বা কার্টুন চালাতে দেওয়া, যা পুরো কেবিনের নীরবতা নষ্ট করে। আরেকটি চিরন্তন দ্বন্দ্ব হলো দুই সিটের মধ্যবর্তী হ্যান্ডরেস্ট বা হাত রাখার জায়গা দখল করা, যা নিয়ে অলিখিত এক শীতল যুদ্ধ চলতে থাকে সিটজুড়ে।

এর বাইরেও কিছু অদ্ভুত সামাজিক অভ্যাস বিমানযাত্রায় এক ধরণের কৃত্রিম অস্বস্তি তৈরি করে। যেমন, বিমান রানওয়ে স্পর্শ করার সাথে সাথে সিটে বসেই পাইলটের উদ্দেশ্যে জোরে তালি দেওয়া বা টয়লেটের সামনে অহেতুক লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পরে বলা যে ‘আমি শুধু পা সোজা করছিলাম’।

এয়ারলাইন্সগুলোর নিজস্ব কিছু বাণিজ্যিক কার্যক্রমও অনেক সময় যাত্রীদের ব্যক্তিগত বিরক্তির কারণ হয়।

এয়ারলাইন্সের মাইকিং ও ধীরগতির প্রস্থান

বিমানের ভেতর উড্ডয়নকালীন সময়ে শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার পরিবর্তে অনবরত লাউডস্পিকারে স্ক্র্যাচ কার্ড, ডিউটি-ফ্রি পারফিউম বা জুস বিক্রির ঘোষণা দেওয়া যাত্রীদের বিনোদন বা ঘুমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। সবশেষে আসে বিমান ল্যান্ড করার পর বের হওয়ার সময় কিছু যাত্রীর চরম ধীরগতি ও অলসতা। বিমানের সিটবেল্ট সাইন বন্ধ হওয়ার পরও অনেকে অত্যন্ত অলসভাবে ওভারহেড লকার থেকে ব্যাগ নামান এবং ম্যাগাজিন বা বালিশের খোঁজে সময় নষ্ট করেন, যা পেছনের তাড়া থাকা যাত্রীদের আটকে রাখে।

banner
Link copied!