শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচি লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচি লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা

রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচি ও এর সঙ্গে জড়িত সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ও কৌশলগত হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন, যা চলমান সংঘাতে এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা দিয়েছে, আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো ও প্লেসেস্কসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্র, উপগ্রহ নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটি এবং রকেট উৎক্ষেপণ স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। গত আগস্ট মাসের শুরুতে মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় বোমা হামলায় রুশ মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আলেকজান্ডার চাইকোর জামাতা নিহত হন এবং এই ঘটনার পেছনে ইউক্রেনের হাত রয়েছে বলে ক্রেমলিন অভিযোগ করেছে। তবে কিয়েভ এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

রুশ মহাকাশ বাহিনীর স্যাটেলাইট ও ভূমিতলস্থ গ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটিগুলো মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নেভিগেশন এবং স্থলভাগে সামরিক তৎপরতা সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে পড়ে গেছে। জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন জানিয়েছেন যে এই ধরনের মূল কারখানাগুলোর বেশিরভাগই ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের ভেতরে রয়েছে এবং এই হামলাগুলো রুশ মহাকাশ কর্মসূচির সামগ্রিক কার্যকারিতায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

চলতি বছরের জুন মাসের শেষ দিকে মস্কোর নিকটবর্তী ডাবনা শহরের একটি বৃহৎ মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। এই আঘাতের ফলে একটি তিন মিটার দীর্ঘ স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা, হার্ডওয়্যার মডিউলার কমপ্লেক্স এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘপাল্লার নিষেধাজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি ক্রিমিয়াসহ পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি ছোট মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্রেও সফল বা ব্যর্থ ড্রোন আঘাত হেনেছে।

মার্কিন মহাকাশ বিশেষজ্ঞ আনাতোলি জাকের মতে, এই ধরনের যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোর নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। এগুলো জিওস্টেশনারি উপগ্রহের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত থাকায় অবকাঠামো পরিবর্তন করা অত্যন্ত দুরূহ। যদিও স্যাটেলাইটগুলো কক্ষচ্যুত হয়নি, তবুও পর্দার অন্তরালে যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে ইউক্রেনের এক ডজনেরও বেশি ড্রোন রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আরখানগেলস্ক অঞ্চলে অবস্থিত প্লেসেস্ক সামরিক কসমোড্রোমের দিকে উড়ে যায়। এটি রাশিয়ার মূল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রধান স্থান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ কর্পোরেশন রোসকসমস জানিয়েছে যে অধিকাংশ ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও উৎক্ষেপণ প্যাডের কাছাকাছি কিছু ড্রোন আঘাত হানার চেষ্টা চালায়। রকেটে পুরোপুরি জ্বালানি ভরার ঠিক আগ মুহূর্তে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

প্লেসেস্ক কসমোড্রোম থেকে মূলত রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের সামরিক উপগ্রহ রাসভিয়েত ফ্লিট উৎক্ষেপণ করা হয়, যা ইলন মাস্কের স্টারলিংক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে তৈরি হচ্ছে। এই উৎক্ষেপণ প্যাড বা রকেট সংযোজন কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত করতে হলে বড় আকারের ড্রোন বহরের প্রয়োজন হয় বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশ্লেষকরা।

এছাড়া ভলগা নদীর তীরবর্তী সামারা শহরে অবস্থিত প্রোগ্রেস রকেট অ্যান্ড স্পেস সেন্টারেও গত আগস্ট মাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এই কারখানাটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সয়ুজ রকেটের একমাত্র উৎপাদন কেন্দ্র। হামলায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন আমল থেকেই মস্কো তাদের মহাকাশ কর্মসূচির সামরিক দিকগুলো আড়াল করে শান্তিপূর্ণ গবেষণার প্রচার চালালেও বর্তমান সংঘাতে এই খাতটি সরাসরি যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

banner
Link copied!