সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত থেকে বাঁচতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ইথিওপিয়া থেকে কেনিয়ায় পালিয়ে গেছেন। কেনিয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে সপ্তাহের শেষে কেনিয়ান রেড ক্রস ১৪ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। বর্তমান সংখ্যাটি তার চেয়ে অনেক বেশি।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ক্লারিস ওগাংহা এক বিবৃতিতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জীবন ও মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা কোনোভাবেই স্থগিত রাখা যাবে না।
মোয়ালেতে আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যেকে যেন আইনের সুরক্ষা পান এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা লাভ করতে পারেন, সে জন্য তিনি কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
ইথিওপিয়ায় চলমান এই সংঘাতে ওরোমিয়া ও সোমালি আঞ্চলিক রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র বেসামরিক নাগরিকরা জড়িত রয়েছেন। মোয়ালে এলাকার আশপাশে প্রশাসনিক সীমানা ও ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে।
ওরোমিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি করা একটি অঞ্চলে সোমালি আঞ্চলিক রাজ্যের পতাকা উত্তোলন এবং নতুন প্রশাসনিক কার্যালয় খোলা নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
গত ১৮ অক্টোবর তেরো বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা বিক্ষোভ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং পরবর্তীতে সংঘর্ষের সূত্রপাত করে। গত ২২ অক্টোবর দক্ষিণ ইথিওপিয়ার বেশ কয়েকটি জনপদে লড়াই ছড়িয়ে পড়ার পর ভারী গোলাগুলি শুরু হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা হতাহতের ঘটনা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কথা জানিয়েছেন।
পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডরে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।
১৫ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ বিদ্যালয় ও গির্জাসহ আটটি অস্থায়ী আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। আরও ২০ হাজারের বেশি মানুষ এলাকার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন।
হঠাৎ এই জনস্রোত স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে খাদ্য, সুপেয় পানি, আশ্রয়স্থল, পয়োনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যসেবার সংকট দেখা দিয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন সতর্ক করে জানিয়েছে যে মারাত্মক জনাকীর্ণতা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই সংকট জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও তৈরি করেছে। এলাকায় পৌঁছানোর পর চারজন নারী সন্তান প্রসব করেছেন। এর মধ্যে মানিয়াত্তা বুর্জিতে দুটি এবং বিতিয়েতে দুটি প্রসবের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এ থেকেই মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা এবং প্রসবোত্তর সেবার তাৎক্ষণিক চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মারসাবিট কাউন্টির প্রতিনিধিত্বকারী কেনিয়ার সংসদ সদস্যরা এর আগে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ইথিওপীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সংকটের প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার কমিশন সহিংসতা বন্ধ করতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের চলাচল নিরাপদে পরিচালনা করতে উভয় দেশের সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কমিশন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে জাতীয়তা বা আইনি মর্যাদা নির্বিশেষে কেনিয়ার ভেতরে থাকা সকল ব্যক্তির জন্যই দেশের সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য।
আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, বিশেষ করে রিফোলমেন্ট নীতি অনুযায়ী কাউকে এমন কোনো স্থানে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তারা নিপীড়ন বা তীব্র হুমকির সম্মুখীন হন। রাষ্ট্রগুলোর এই বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও কমিশন উল্লেখ করে।
মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে যে জীবনযাত্রার মান আরও অবনতি হওয়া রোধ করতে যেকোনো মানবিক পদক্ষেপে কেনিয়ার স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের চাহিদাকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
