বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সুদানে ড্রোন হামলা

সুদান সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় বাজার ধ্বংস ও শতাধিক নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

সুদান সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় বাজার ধ্বংস ও শতাধিক নিহত

সুদানের দক্ষিণ দারফুর প্রদেশের রাজধানী ন্যালা শহরের একটি ব্যস্ত বাজারে সামরিক ড্রোনের হামলায় একশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লয়ার্স মঙ্গলবার এই হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করে।

সোমবার সন্ধ্যায় এই হামলা চালানো হয় এবং এতে আরও ১১৩ জন আহত হন। মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। তারা এই হামলার জন্য সামরিক বাহিনীকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড একটি বেসামরিক বাজারকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে বাসিন্দাদের জীবন বিপন্নকারী ও তাদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছে তারা।

ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারস বা মেদিসাঁ সঁ ফ্রেঁস জানিয়েছে, ন্যালায় তাদের পরিচালিত হাসপাতালে ৩৬ জনের মৃতদেহ আনা হয়েছে এবং জরুরি বিভাগে ১৫০ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে লড়াই চলাকালীন ন্যালা শহরটি এই আধাসামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই সংঘাতে ড্রোন যুদ্ধ একটি প্রধান কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষেরই ড্রোন হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, যুদ্ধরত পক্ষগুলো হাসপাতাল, বাঁধ, স্কুল, বাজার ও বাস্তুচ্যুতদের শিবিরের মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে ক্রমশ লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

একটি প্রধান বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর মঙ্গলবার খার্তুমের বড় একটি অংশের বাসিন্দারা ১২ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎহীন ছিল। রাজধানীর উপকণ্ঠ ওমদুরমানের আল-মারখিয়াত ট্রান্সফরমার স্টেশনে একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে এক কর্মকর্তা জানান।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সুদানিজ ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও বিতরণ নেটওয়ার্ক ও বেশ কয়েকটি প্রধান স্টেশনে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ও কারিগরি ত্রুটির কথা জানিয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

আল-মারখিয়াত স্টেশনের কাছে বসবাসকারী এক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাফিজ আব্দুল মুতাল বিস্ফোরণের আগে একটি ড্রোনের শব্দ শুনতে পান। তিনি জানান, ফজর নামাজের জন্য যাওয়ার সময় ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি খুব কাছ থেকে ড্রোনের শব্দ শোনেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ চলে যায়।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। জনসংখ্যার সাতষট্টি ভাগের বেশি মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল এবং আট লাখ পঁচিশ হাজার শিশু চরম অপুষ্টির শিকার।

ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেস ক্লাসিফিকেশন গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছে যে বৃহত্তর দারফুর ও কর্ডোফান রাজ্যের মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। এসব অঞ্চলের তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা পুরো জনগোষ্ঠীকে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ফেলছে।

banner
Link copied!