মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

নাইজেরিয়ায় সহিংসতা

উত্তরপূর্ব নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা: নিহত অন্তত ৬২

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১০:০০ পিএম

উত্তরপূর্ব নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা: নিহত অন্তত ৬২

উত্তরপূর্ব নাইজেরিয়ার একটি দুর্গম গ্রামে সশস্ত্র হামলাকারীদের চালিত অভিযানে অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারাবা রাজ্যে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান লাদান আয়ুবা গত মঙ্গলবার জানান, হামলার সময় হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং তারা এখনো নিজ ঠিকানায় ফিরতে পারেননি।

গত শুক্রবার তারাবার বিনারি গ্রামে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া শাখা জানিয়েছে, হামলাকারীরা অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট, খাদ্যপণ্য ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।

তারাবা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ভিক্টর মশেলিজাহ চলমান তল্লাশি অভিযানের বিবরণ দিয়ে জানান, ঘটনাস্থলে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন এবং যতগুলো মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে, সেগুলোর হিসাব রাখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বোকো হারাম সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে গত পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে গভীর নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে নাইজেরিয়া। বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রায়ই সশস্ত্র দলগুলোর হামলা ও অপহরণের শিকার হন।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়া। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ উত্তরঞ্চলের কিছু এলাকার গ্রামীণ জনপদগুলোকে বারবার নৃশংসতা চালানো বন্দুকধারীদের মর্জির ওপর অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখছে।

এই ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। কেবল গতানুগতিক নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়।

নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী অবৈধ খনি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এসব খনি থেকে আসা মুনাফা তাদের আরও অস্ত্র কেনা এবং সদস্য সংগ্রহের মতো কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে সহায়তা করে।

ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, এই আর্থিক সক্ষমতার কারণে দেশজুড়ে এবং বৃহত্তর সাহেল অঞ্চলে অস্ত্র চোরাচালান ও সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

banner
Link copied!