ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে পপুলার রেজিস্ট্যান্সের সহায়তায় তারা তাইজ প্রদেশের বেশ কিছু নতুন এলাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সেনারা আল-নিদানি গ্রাম, শাব আল-সারারি, সানামত এলাকার বড় অংশ এবং ধি আল-বারহের রিবাত আল-কার্ন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তীব্র সংঘর্ষ চলাকালে সাবের মোর্চায় লড়াই অব্যাহত ছিল। সামরিক বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী আল-সারারি এলাকার প্রবেশপথগুলোতেও অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করেছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে এই সংঘর্ষে হুথিরা জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের দিক থেকে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। পুনরুদ্ধার করা নতুন এলাকাগুলোতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি ফেলে যাওয়া স্থলমাইন নিষ্ক্রিয় করার কাজ চালাচ্ছিল সরকারি সেনারা।
এরই মধ্যে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে হুথিরা শুক্রবার তাইজের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-হাদারা জনবহুল বাজারে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় বহু সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন, যদিও মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
বাজারের ওপর চালানো এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাইজের সরকার নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র তৈরির দাবি জানিয়েছে। কর্মকর্তারা আলামত রক্ষা করার এবং তা স্বাধীনভাবে কারিগরি পরীক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাকেও এই হামলার তদন্তে সহায়তা করতে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে।
তাইজ ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ এবং এটি তীব্রভাবে বিভক্ত রয়েছে। সরকারি বাহিনী প্রদেশের রাজধানী ও কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মোখা ও আল-ওয়াজিয়াহসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকায় অগ্রাভিযান চালিয়ে হুথিরাই প্রদেশের বেশিরভাগ অংশ দখল করে রেখেছে।
প্রতিবেশী লাহিয প্রদেশে সেনাবাহিনীর ‘সেপ্টেম্বর নেট’ ওয়েবসাইট জানিয়েছে যে সরকারপন্থী ‘নেশনস শিল্ড’ বাহিনী ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের আওতায় হুথিদের অবস্থান, গাড়ি এবং কমান্ডারদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ওয়েবসাইটটি হামলার ফুটিজ প্রকাশ করলেও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে যে গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৮ হাজার ৬৫৩ জনে বা ৫১ হাজার ৪৩৬ পরিবারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে একাই তাইজ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৮ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
