ভারী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোমবার আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। ইসরায়েলি চ্যানেল সেভেন জানায়, পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিবিদ আল-বুরাক প্রাচীরের কাছে প্রার্থনা করেন।
আল-বুরাক প্রাচীরটি আল-আকসা প্রাঙ্গণের পশ্চিম অংশ গঠন করে। মুসলমানরা আল-আকসা মসজিদকে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। অন্যদিকে ইহুদি গোষ্ঠীগুলো একই স্থানকে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে অভিহিত করে থাকে, যেখানে দুটি প্রাচীন মন্দির ছিল বলে তাদের দাবি।
চ্যানেল সেভেনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বেন-গভীর এই প্রাঙ্গণের ভেতরে ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাওয়ে রয়েছেন। আরেকটি ছবিতে তাকে এই সংবেদনশীল স্থানে প্রার্থনা করতে দেখা যায়।
বেন-গভীর তার এই প্রবেশের কোনো পূর্বঘোষণা দেননি। দুই হাজার বাইশ সালের শেষ দিকে মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি যেসব অনধিকার প্রবেশ করেছেন, তার প্রায় প্রতিটিতেই এই পূর্বঘোষণা না দেওয়ার কৌশল দেখা গেছে।
সোমবারের এই অনুপ্রবেশ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ফিলিস্তিনি দলগুলো জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা, তাদের সম্পত্তি এবং ইসলামিক পবিত্র স্থানগুলোকে নিজের নির্বাচনী প্রচারণার পালে হাওয়া দিতে ব্যবহার করছেন বেন-গভীর।
সমালোচকরা আরও অভিযোগ করেন যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসরায়েলের ভেতরের আরব ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন এই কট্টরপন্থী মন্ত্রী। মসজিদের ওপর দমনপীড়ন এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করা বেন-গভীরের নির্বাচনী কৌশলের অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই হানা সংঘটিত হলো। কেনসেটের একশ বিশ জন সদস্য নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রে যাবেন ইসরায়েলি ভোটাররা।
এই নির্বাচনে প্রধান একটি রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সাবেক সেনাপ্রধান গাাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছে তার এই জোট।
