সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে নিপীড়ন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘের তদন্ত দল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘের তদন্ত দল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নির্মূলের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে নিয়োজিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে যে ইসরায়েলি সরকার ও তাদের সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা। এই প্রতিবেদন প্রকাশের দিনেই হেব্রন শহরে সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। আগের সপ্তাহে ঘটা একটি বন্দুক হামলার পর সেখানে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং লোকজনকে বিতাড়িত করার ঘটনা ঘটে।

কমিশন জানিয়েছে যে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতা সাধারণ নাগরিকদের ওপর একটি ব্যাপক ও সুসংহত আক্রমণের রূপ নিয়েছে। এর আগে গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তদন্ত প্যানেল বলেছিল যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ চলাকালে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল বরাবরই এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক আগের দিন এই নতুন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, গাজা থেকে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার জেরে পশ্চিম তীরের সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল দেশটির। তাঁরা জাতীয়তা, বর্ণ এবং জাতিগত পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে চালানো নিপীড়নের অপরাধগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

জেনেভায় অবস্থিত ইসরায়েলি মিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মিশনটি জানিয়েছে যে এই প্রতিবেদনটি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং এর অস্তিত্বকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর একটি চলমান অপপ্রচার মাত্র। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিকৃত তথ্যগুলো প্রত্যাখ্যান করার এবং অবিলম্বে এই কমিশন ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা.

তিন সদস্যের এই তদন্ত দলটি ২০২১ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের দেওয়া ম্যান্ডেটের অধীনে কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত এই নথিতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক ঘটা হত্যাকাণ্ড এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গাজা থেকে হামাসের হামলার পর থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গাজার সামরিক অভিযানের কারণে সেখানকার প্রায় পুরো অঞ্চলের মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং নিহত হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে ১ হাজার ১৪৩ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ কর্মকর্তারা, যার মধ্যে অন্তত ২৫০ জন শিশু রয়েছে।

banner
Link copied!