সোমবার দুটি বুলডোজার নিয়ে পশ্চিম তীরের একটি শহরে প্রবেশ করে ইসরায়েলি সেনা সদস্যরা। আল-নাক্কার এলাকায় এই অভিযান চালিয়ে নাঈম আবু শিহাব নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে এর মালিককে দ্রুত তা খালি করার নির্দেশ দেয় সেনারা। নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার অজুহাতে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। আল-মালাব সড়কে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী, তবে এতে কেউ গুলিবিদ্ধ হননি বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে টিয়ার গ্যাসের কারণে শ্বাসকষ্টে ভোগা তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন তাদের চিকিৎসাকর্মীরা।
স্থানীয় প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা শহরের কেন্দ্রীয় বাজার এলাকার ফুটপাতগুলোরও ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছেন।
এর আগে সোমবার ফিলিস্তিনের ঔপনিবেশিকতা ও দেওয়াল প্রতিরোধ কমিশন এই অঞ্চলের সহিংসতার পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। পশ্চিম তীরের চারটি গভর্নরেটে কৃষক ও তাদের জমির ওপর ইসরায়েলি সেনা এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ১৩টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি।
পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, নির্বিচারে আটক, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি মসজিদ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, বুলডোজার দিয়ে কৃষিজমি ধ্বংস এবং কৃষকদের জমিতে যেতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
ইসরায়েলি এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলো নিজেদের আবাসভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এই ঘটনাগুলোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
