শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কূটনৈতিক বৈঠক

ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির আলোচনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৮:০০ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির আলোচনা

সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি। ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জও এই আলোচনায় স্থান পায় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে ইউক্রেনের স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রায় ছয় বছরের কাছাকাছি পৌঁছানো এই যুদ্ধ বন্ধ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনার প্রচেষ্টার বিষয়েও দুই নেতা মতৈক্যে পৌঁছান। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়ে তারা ঐকমত্য পোষণ করেন।

আলোচনার আরেকটি বড় অংশজুড়ে ছিল দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা। ব্রিটিশ ও আমেরিকান কোম্পানিগুলোর চলমান অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান তারা। বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটির ওপর তারা জোর দেন।

এ সময় জ্যাকডা গ্যাস ক্ষেত্র অনুমোদন করার জন্য জ্বালানি সচিব মিয়ত্তা ফাহনবুல்லের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এই প্রকল্পটি অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে এবং ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে একমত হন দুই নেতা।

পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিতর্কিত এই উত্তর সাগর গ্যাস ক্ষেত্রটি পুনর্বহাল করে ব্রিটিশ সরকার। চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই প্রকল্প থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উত্তর ফকল্যান্ড অববাহিকায় প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত গভীর সমুদ্রের তেল উদ্যোগ সি লায়ন প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার ফলে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, সেটির প্রতি ইঙ্গিত করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্বীপবাসীর অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে এসে হুথিদের যেকোনো শত্রুভাবাপন্ন আচরণের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ব্রিটিশ নেতা। গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে নতুন করে লড়াই শুরুর পর থেকে রিয়াদ ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে হুথি আন্দোলনের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট।

অন্যদিকে, ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে হুথি গোষ্ঠী।

banner
Link copied!