যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে। কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে জাহাজ চলাচলের এই নতুন পথ উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। আগে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হতো। তবে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছিল।
টানা তিনদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে প্রায় এক শতাংশ। বিনিয়োগ ব্যাংক মর্গান স্ট্যানলি সতর্ক করেছে যে, বাজারে তেলের ঘাটতি মিটে গিয়ে এখন বড় ধরনের উদ্বৃত্ত বা তেলের গ্লুট তৈরির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। এই সতর্কতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চীনের তেল আমদানির হার কমে যাওয়া। বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান জাহাজগুলোকে ৬০ দিনের জন্য বিনা শুল্কে চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই চুক্তির ভাষ্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তেহরান দাবি করেছে যে, ওমানের সাথে যৌথ সম্মতির ভিত্তিতে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অধিকার তাদের রয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও তেলের সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বেড়েছে যা দাম কমার অন্যতম কারণ। মর্গান স্ট্যানলি জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার ৩৫টি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেরিয়ে গেছে। যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতির সাথে এই সংখ্যা সামঞ্জস্যপূর্ণ। জ্বালানি বাজারের এই পরিবর্তন ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি দিলেও তেলের দাম অতিরিক্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় তেলের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ব্রেন্ট ফিউচারের দামও এক শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, চীন যদি তাদের তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, তবে তেলের বাজার কোন দিকে মোড় নেবে। বিশ্লেষকদের নজর এখন মূলত এই দুই বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ।
