জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইয়াসুকুনী মন্দির পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি, যা এশীয় অঞ্চলে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এই মন্দিরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত প্রায় আড়াই মিলিয়ন মানুষের পাশাপাশি দোষী সাব্যস্ত কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে প্রতিবার জাপানি সরকারি কর্মকর্তাদের এই স্থান পরিদর্শনের সময় প্রতিবেশী দেশ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
মূলত ১৯ শতকের শেষভাগে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি জাপানের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও এর বিতর্কিত ইতিহাস আন্তর্জাতিক মহলে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিশেষ করে ১৯৭৮ সালে যুদ্ধকালীন চৌদ্দজন শ্রেণিভুক্ত অপরাধীকে এই মন্দিরে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই এর বিরোধিতার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, জাপান তাদের অতীতের ঔপনিবেশিক শাসনকাল এবং সংঘটিত নৃশংসতার জন্য প্রকৃত অনুশোচনা প্রকাশ না করে বরং এই ধরনের স্মারক স্থানগুলোকে টিকিয়ে রাখছে।
চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সরাসরি মন্দিরটিতে উপস্থিত না হয়ে দূরে থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং উপঢৌকন পাঠিয়ে প্রথা বজায় রেখেছেন। অতীতে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মতো শীর্ষ নেতারা এই স্থান পরিদর্শন করায় কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কৌশলগত কারণে সরাসরি উপস্থিতি এড়িয়ে চললেও তার প্রশাসনের মন্ত্রীদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিবেশীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা জাপানি নেতৃত্বের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী সংবিধান মেনে চললেও জাপানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই জাতীয়তাবাদী আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন এবং কোরিয় উপদ্বীপের দেশগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্মমতার স্মৃতি এখনও অত্যন্ত গভীরভাবে অনুভূত হয়। ফলে এই ধরনের ঐতিহাসিক বিতর্ক এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকে দুর্বল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বারবার ঐতিহাসিক সত্য স্বীকার করে সমঝোতার আহ্বান জানানো হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।
