রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি: জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি: জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চিত্র

২০২৬ সালের এই সময়ে এসে বিশ্ব অর্থনীতি এক জটিল ও অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতা এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটগুলোতে বাধার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি তেলের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা বিশ্বের অনেক উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি আমদানির জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে বাধ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গত বছরের তুলনায় কিছুটা মন্থর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার নিয়ে রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছে।

 এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ কমে যাচ্ছে এবং ঋণের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেও সনাতন শ্রমবাজারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরেকটি বড় দিক হলো খাদ্য ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত না হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে না, ততক্ষণ বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসা কঠিন। 

তবে এর মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ এবং লাতিন আমেরিকার অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

banner
Link copied!