রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

করাচি বন্দরে ৩ হাজার ইরানি কনটেইনার আটকা, সমাধান কি স্থলপথ?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

করাচি বন্দরে ৩ হাজার ইরানি কনটেইনার আটকা, সমাধান কি স্থলপথ?

আটকা পড়া ইরানি কনটেইনার । ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-অবরোধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবে করাচি বন্দরে ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠানো ৩ হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে বলে রয়টার্স ও স্থানীয় শিপিং নথিপত্র নিশ্চিত করেছে। ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে এই পণ্যগুলো সমুদ্রপথে ইরানে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেগুলো করাচি বন্দরে খালাস করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

উদ্ভূত সংকট নিরসনে বর্তমানে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে একটি বিকল্প স্থলপথ ব্যবহারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, করাচি বন্দরে আটকে থাকা এই ৩ হাজার কনটেইনার পাকিস্তানি ট্রাকে করে সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ইরানি ট্রাকের মাধ্যমে সেগুলো দেশটির ভেতরে প্রবেশ করবে।

 শিপিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপথে মার্কিন নৌ-অবরোধ বর্তমানে সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও পড়ছে।

এদিকে অবরোধের মুখেও ইরান বিকল্প উপায়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউয়ান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টোল ও পেমেন্ট গ্রহণ করছে। 

বিশেষ করে তেলের চালানের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে প্রায় এক ডলার করে চার্জ আদায় করছে তেহরান, যা দেশটির জন্য অত্যন্ত লাভজনক। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক তৎপরতা এই বিকল্প অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বাধাগ্রস্ত করার নতুন পথ খুঁজছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। 

এই পরিস্থিতি কেবল ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপরও ছায়া ফেলছে।

banner
Link copied!