রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

স্পিরিট এয়ারলাইন্স বন্ধ: ৫শ মিলিয়ন ডলারের উদ্ধার চুক্তি ব্যর্থ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

স্পিরিট এয়ারলাইন্স বন্ধ: ৫শ মিলিয়ন ডলারের উদ্ধার চুক্তি ব্যর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ স্বল্পখরচের বিমান সংস্থা ‍‍`স্পিরিট এয়ারলাইন্স‍‍` তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি জরুরি উদ্ধার প্যাকেজ বা বেলআউট পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার ভোরে এয়ারলাইন্সটি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর ফলে কোম্পানিটির ৩৪ বছরের পথচলা শেষ হলো, যা মার্কিন বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে তারা অবিলম্বে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গভীর হতাশার সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি যে, ২ মে ২০২৬ থেকে স্পিরিট এয়ারলাইন্স তার কার্যক্রম বন্ধের কাজ শুরু করেছে। আমাদের সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং গ্রাহকসেবা এখন থেকে আর পাওয়া যাবে না।" কোম্পানিটি যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।

এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, স্পিরিট এয়ারলাইন্সের এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ ছিল ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের আকাশচুম্বী দাম। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। একটি এয়ারলাইন্সের পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই থাকে জ্বালানি খাতে। স্পিরিট এয়ারলাইন্স এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে আর্থিক সংকটে ছিল এবং ২০২৪ সাল থেকে দুইবার দেউলিয়া হওয়ার আবেদন (চ্যাপ্টার ১১) করেছিল। যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অতিরিক্ত ব্যয় কোম্পানিটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই এয়ারলাইন্সটিকে রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এয়ারলাইন্সটির ৯০ শতাংশ মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া এবং পরবর্তীতে লাভজনক অবস্থায় এটি আবার বিক্রি করা। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন তার নিজ দলের অনেক নেতা এবং কিছু বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা কোম্পানিটিকে একটি ‍‍`চূড়ান্ত প্রস্তাব‍‍` দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনা সফল হয়নি।

সব ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। স্পিরিট জানিয়েছে, যাদের টিকিট কেনা ছিল তাদের সরাসরি কোনো রিফান্ড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে যারা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিট কেটেছেন, তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের দাবি বা ‍‍`চার্জব্যাক‍‍` আবেদন করতে পারেন। কোম্পানিটির প্রায় ১৭ হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন।

বিশ্লেষক সাভান্তি সিথ বিবিসিকে বলেন, ইরান যুদ্ধের আগে থেকেই স্পিরিট এয়ারলাইন্সের অবস্থা নড়বড়ে ছিল। তবে জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, স্পিরিটের মতো একটি বড় বাজেট এয়ারলাইন্স বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়ার ফলে প্রতিযোগিতার অভাব তৈরি হবে, যার ফলে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে মার্কিন যাত্রীদের টিকিটের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

banner
Link copied!