যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই) ২০২৬ সালের এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘদিনের ব্যবধান ঘুচিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) যৌথভাবে দেশসেরার তকমা অর্জন করেছে। এশিয়ার ৩৬টি দেশের মোট ৯২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ১৪তম সংস্করণটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
এবারের র্যাঙ্কিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এশিয়া অঞ্চলে সেরা ৩০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করতে না পারলেও ৩০১-৩৫০ ব্যান্ডের মধ্যে অবস্থান করছে ঢাবি ও বুয়েট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উত্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা, কারণ গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে দেশের ভেতরে ঢাবির অবস্থান ছিল দশম এবং এশিয়ার প্রেক্ষাপটে অবস্থান ছিল ৪০১-৫০০ ব্যান্ডের মধ্যে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১০০ ধাপ উন্নতি করে শীর্ষে উঠে আসাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে গবেষণার মান ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। টিএইচই-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্কোর ৩১.৫-৩৪.৩ থেকে বেড়ে ৩৮.৩-৪০.১ এ উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণার পরিবেশ সূচকে ১২.০ থেকে ১৫.৭ এবং গবেষণার গুণগত মান সূচকে ৫৮.৮ থেকে ৭৪.৩ পর্যন্ত বড় উন্নতি হয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি ২১.৪ থেকে ৩৩.২ স্কোর অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তালিকায় ঢাবি ও বুয়েটের ঠিক পরেই অবস্থান করছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। এই দুটি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এশিয়ার ৩৫১-৪০০ ব্যান্ডের মধ্যে থেকে দেশের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান দখল করেছে। পরবর্তী ব্যান্ড অর্থাৎ ৪০১-৫০০-এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ৫০১-৬০০ ব্যান্ডের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, কুয়েট এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে।
এশিয়ার সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে বরাবরের মতোই চীনের আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। তালিকার শীর্ষ ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টিই চীনের, যার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই তালিকায় আসা দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারের ইঙ্গিত দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গবেষণার গুণগত মান ও শিক্ষা কার্যক্রমের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে এই ধারাবাহিকতা আগামীতেও বজায় রাখার চেষ্টা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
