দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এই ভর্তি যুদ্ধ সারা দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরের নির্বাচিত ১৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে পরিচালিত হবে।
এ বছর প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন, যা উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতায় এক বিশাল সংখ্যা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন প্রায় ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৫ জন শিক্ষার্থী। সারা দেশের ৮৮০টি কলেজে (৩৭৫টি সরকারি ও ৫০৫টি বেসরকারি) নির্ধারিত আসনের বিপরীতে এই মেধাযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারি কলেজগুলোর ২ লাখ ৭০ হাজার ৫২০টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ২২৯ জন। অন্যদিকে, বেসরকারি কলেজের ১ লাখ ৮২ হাজার ৩৫৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৫৮ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতার এই চিত্র বলে দিচ্ছে যে সরকারি কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র লড়াই হতে যাচ্ছে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারেননি, তারা প্রাথমিক আবেদন ফরম, এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং এসএমএসে পাওয়া রোল নম্বর নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন।
তবে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে যে আবেদন ফরমের ছবির সঙ্গে যদি পরীক্ষার্থীর উপস্থিত চেহারার অমিল পাওয়া যায়, তবে তাকে কোনোভাবেই পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এছাড়া যেসব প্রার্থীর আবেদন সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকে অনলাইনে নিশ্চয়ন করা হয়নি, তারা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন না।
পরীক্ষার হলে ওএমআর (OMR) শিট পূরণের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই কালো কালির বল পয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে এবং কোনোভাবেই পেনসিল ব্যবহার করা যাবে না। ওএমআর শিটে কোনো প্রকার সাংকেতিক চিহ্ন বা মোবাইল নম্বর লেখা হলে সেই উত্তরপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন—মোবাইল ফোন বা ক্যালকুলেটর নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার পর কাউকে আর হলে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য শিক্ষার্থীরা ১ নম্বর পাবেন এবং ন্যূনতম পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকলেও প্রতিটি শাখায় বাংলা ও ইংরেজিতে ২০ নম্বর এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাকি ৪০ নম্বর থাকবে সংশ্লিষ্ট শাখার বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের ওপর।
মেধা তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ-কেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। মেধা তালিকায় যোগ্য হতে হলে শিক্ষার্থীদের এই সব ধাপ সফলভাবে পার করতে হবে। আজ দুপুরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
