রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী কারাগারে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী কারাগারে

শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যুতে কারাগারে ঢাবি শিক্ষক। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এই নির্দেশ প্রদান করেন। এদিন আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মিমোর আত্মহত্যার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে যে এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে সুদীপ চক্রবর্তীর পক্ষে আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ তার জামিনের জন্য শুনানি করেন। 

উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তবে শুনানির সময় আসামিকে আদালতের মূল কক্ষে তোলা হয়নি বরং তাকে হাজতখানায় রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রাথমিক তদন্তে সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে দাবি করে পুলিশ।

সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে রোববার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে ওই দিনই উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয় যা বর্তমানে মামলার অন্যতম প্রধান আলামত। ওই চিরকুটে সুদীপ চক্রবর্তীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া এবং তার দেওয়া উপহারগুলো ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চিরকুটের বয়ান অনুযায়ী মিমো লিখেছিলেন যে তাকে সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। এর পাশাপাশি মিমোর ব্যক্তিগত আবেগের কিছু প্রতিফলনও সেখানে ছিল। 

এই তথ্যের ভিত্তিতেই মিমোর পরিবার অভিযোগ তোলে যে সুদীপ চক্রবর্তীর মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণে মিমো আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পুলিশ এখন মিমোর মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করছে যাতে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার লেনদেন বা অন্য কোনো সম্পর্কের বিষয় স্পষ্ট হওয়া যায়। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে সুদীপ চক্রবর্তীকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আদালতে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কঠোর ব্যবস্থা না নিলেও বিভাগীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বেশ অস্বস্তি রয়েছে। সহপাঠীদের দাবি মিমো অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল ছিলেন এবং তার এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। 

তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন যাতে কোনো পক্ষই ছাড় না পায়। অন্যদিকে সুদীপ চক্রবর্তীর আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে তাদের মক্কেল নির্দোষ এবং তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে আদালতের বর্তমান সিদ্ধান্তে সুদীপ চক্রবর্তীকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। আগামী দিনে তদন্তের গতিপ্রকৃতিই বলে দেবে মিমোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল।

banner
Link copied!