২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদাহে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে, যা নিয়ে ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও রাজশাহীসহ ১০টি জেলায় তাপমাত্রা ৩৬°C থেকে ৪০°C-এর উপরে অবস্থান করছে, যার ফলে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের হিটস্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে বাবা-মায়েদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ড. আবু সাঈদ শিমুল জানিয়েছেন, ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট।
এই গরমে শিশুকে আলাদা করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে মাকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের ওজন অনুযায়ী পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ১০ কেজি ওজনের শিশুর জন্য দিনে অন্তত ১ লিটার পানি প্রয়োজন। দোকানের কেনা জুস বা কোল্ড ড্রিঙ্কসের পরিবর্তে ডাব, তরমুজ বা ঘরে তৈরি ফলের রস দেওয়া বেশি নিরাপদ।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রে অবশ্যই সুতির ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের কাপড় বেছে নিতে হবে। দিনের বেলা, বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুকে রোদে বাইরে নেওয়া একদম অনুচিত।
ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জানালা খুলে রাখা বা পর্দার ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি শিশুর শরীরে অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত তাকে শীতল স্থানে নিয়ে শরীর ভেজা গামছা দিয়ে মুছে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন (ORS) খাওয়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়লে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। গরমে বারবার শিশুকে গোসল করানো যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি অতিরিক্ত ঠান্ডা না হয়।
এই চরম আবহাওয়ায় শিশুর ত্বকের র্যাস রোধে পাউডার বা ভারী লোশন ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ গরমে আপনার প্রিয় সন্তানকে বিপদমুক্ত রাখতে।
