রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হাদিসের কথা

ইসলামে আদর্শ পরিবার গঠনের সঠিক পদ্ধতি ও করণীয় সমূহ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

ইসলামে আদর্শ পরিবার গঠনের সঠিক পদ্ধতি ও করণীয় সমূহ

আদর্শ মুসলিম পরিবার I ছবি : সংগৃহীত

ইসলামিক পরিবার গঠনের প্রথম এবং প্রধান ধাপ হলো সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনদারীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনায় তিনি জানিয়েছেন যে, মানুষকে সাধারণত চারটি গুণের ভিত্তিতে বিবাহ করা হয়, তবে একজন মুমিনের উচিত দ্বীনদার পত্নী বা পতি গ্রহণ করা যাতে করে পরবর্তী জীবন বরকতময় হয় (সহীহ আল-বুখারী, ৫০৯০)। 

একটি পরিবারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক দ্বীনদারিতার ওপর। যখন উভয়ের লক্ষ্য হবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন, তখন সেই সংসারে সাকিনাহ বা প্রশান্তি নেমে আসা স্বাভাবিক।

বিবাহের পর স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক আচরণ পরিবারের পরিবেশ নির্ধারণ করে। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবন যাপন করার জন্য (সূরা আন-নিসা, ৪:১৯)। এটি কেবল একটি উপদেশ নয়, বরং এটি একটি পারিবারিক নীতিমালা। অনেক সময় ছোটখাটো ভুল-ভুটি হতে পারে, তবে ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে সেগুলোকে মোকাবিলা করাই ইসলামের শিক্ষা। 

পরিবারের প্রধান হিসেবে পুরুষের দায়িত্ব হলো পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। সহীহ বুখারীর আরেকটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিটি মানুষই তার নিজ নিজ দায়িত্বের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে এবং একজন ব্যক্তি তার পরিবারের রাখাল বা অভিভাবক (সহীহ আল-বুখারী, ৭১৩৮)।

একটি আদর্শ ইসলামিক পরিবারের প্রাণভোমরা হলো নিয়মিত ইবাদত ও জিকিরের চর্চা। ঘরকে কেবল ঘুমানোর জায়গা না বানিয়ে সেখানে নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত এবং দ্বীনি আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সন্তানদের সামনে বাবা-মায়ের আচরণ এমন হওয়া উচিত যা দেখে তারা সততা ও নিষ্ঠার শিক্ষা পায়।

 সন্তানরা যা শোনে তার চেয়ে যা দেখে তা থেকে বেশি শেখে। তাই শৈশব থেকেই তাদের মনে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা রোপণ করতে হবে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং একে অপরের দুঃসময়ে পাশে থাকাই হলো ইসলামের প্রকৃত আদর্শ।

পরিশেষে বলা যায় যে, একটি ইসলামিক পরিবার কেবল দুনিয়াবী সুখের জন্য নয় বরং পরকালীন মুক্তির একটি পাঠশালা। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের শিখিয়েছেন তারা যেন এমন সন্তান ও জীবনসঙ্গী প্রার্থনা করে যারা তাদের চোখের শীতলতা হবে এবং তাদের মুত্তাকীদের ইমাম বা নেতা বানাবে (সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৭৪)। 

এই দৃষ্টিভঙ্গি লালন করলে এবং দৈনন্দিন জীবনে সুন্নাহর অনুসরণ করলে যেকোনো সাধারণ ঘর একটি আদর্শ জান্নাতী পরিবেশে রূপান্তরিত হতে পারে। পারিবারিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বড়দের সম্মান ও ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন করা ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসিত এবং এটিই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি।

banner
Link copied!