শিশুকে ঘরে বসে ইসলামিক শিষ্টাচার বা আদব শেখানোর সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো মা-বাবার নিজস্ব আচরণ। শিশুরা উপদেশ শোনার চেয়ে তাদের চোখের সামনে যা দেখে তা বেশি অনুকরণ করতে পছন্দ করে। তাই সন্তানকে `বিসমিল্লাহ` বলা শেখানোর আগে খাবার খাওয়ার সময় অভিভাবককে নিজে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ বলতে হবে। এটি কেবল একটি বাক্য নয় বরং একটি জীবনবোধ যা শিশুর মনে গেঁথে যায়।
সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনায় দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন এবং তিনি তাদের ছোট ছোট ভুলের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত ধৈর্য ও মমতার সাথে সংশোধন করে দিতেন (সহীহ আল-বুখারী, ৫৯৯৭)। এই মমতাটুকুই হলো শিক্ষার মূল চাবিকাঠি যা শিশুকে ইসলামের প্রতি অনুরাগী করে তোলে।
খাওয়ার আদব শেখানো শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওমর ইবনে আবি সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খাওয়ার সময় ডান হাত ব্যবহার করতে এবং নিজের সামনের অংশ থেকে খেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন (সহীহ মুসলিম, ২০২২)। ঘরে বসে মা-বাবা যখন নিয়ম করে খাবারের সময় এই সুন্নাহগুলো পালন করেন, তখন শিশুটি স্বাভাবিকভাবেই তা শিখে নেয়।
এছাড়া প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ যেমন ঘরে ঢোকার সময় সালাম দেওয়া বা হাঁচি দেওয়ার পর `আলহামদুলিল্লাহ` বলা—এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে শিশুর আচরণে ইসলামের প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য যে, এই প্রক্রিয়াটি একদিনের নয় বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
শিশুদের ঘুমের সময়কে দ্বীনি শিক্ষার একটি চমৎকার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বড় বড় তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে নবি-রাসুলদের বীরত্বগাঁথা এবং সাহাবীদের সততার গল্পগুলো শিশুদের কল্পনাশক্তিকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে।
যখন একটি শিশু তার প্রিয় মা বা বাবার মুখে নবিদের আত্মত্যাগ ও দয়ার গল্প শোনে, তখন তার অবচেতন মনে সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করার ইচ্ছা জন্মায়। আধুনিক মনস্তত্ত্ববিদরা যেমন বলেন শিশুরা অনুকরণের মাধ্যমে শেখে, ইসলামও তেমনই বাস্তবসম্মত আচরণের ওপর জোর দেয়। ঘরের পরিবেশে অযথা রাগ বা চিৎকার না করে ধৈর্যের সাথে শিশুকে বোঝালে সেও শান্ত ও মার্জিত আচরণের অধিকারী হতে শেখে যা একটি আদর্শ সমাজ গঠনে সহায়ক।
