যুক্তরাজ্যের হাম্বার টিচিং এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে যে বর্তমানে অনেক অভিভাবকই তাদের শিশুদের পটি ট্রেনিং বা টয়লেট ব্যবহারে অভ্যস্ত করাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। হুল এলাকার প্যারেন্টিং সাপোর্ট সার্ভিসে আসা ফোন কলগুলোর প্রায় ৪৪ শতাংশই ছিল শিশুদের টয়লেট প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সহায়তা নিয়ে।
বিবিসিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বর্তমান সময়ে শিশুদের টয়লেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বয়স আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে স্কুলে যাওয়ার বয়স হওয়ার পরও যেসব শিশু নেপি বা ডায়াপারের ওপর নির্ভরশীল থাকে তারা পড়াশোনা এবং সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ লিন্ডসে এডম জানান যে শিশুর ১৮ মাস বয়স থেকেই তাকে পটি বা টয়লেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত। অনেক অভিভাবক মনে করেন যে শিশু নিজে থেকে কোনো লক্ষণ না দেখানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
তবে এডমের মতে বিশেষ কোনো লক্ষণের জন্য অপেক্ষা না করে ১৮ মাস বয়স থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা সবচেয়ে কার্যকর। তিনি আরও জানান যে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন প্রাথমিক স্কুলে প্রবেশের বয়সে পৌঁছানোর পরও সম্পূর্ণভাবে টয়লেট ব্যবহারে সক্ষম হয়ে ওঠে না।
এই পরিস্থিতি শিশুদের আত্মবিশ্বাস এবং আবেগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো তাদের ক্ষেত্রেও দেরি না করে দ্রুত শুরু করা জরুরি। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে একটি শিশু যদি স্কুলে যাওয়ার আগে স্বাধীনভাবে টয়লেট ব্যবহার শিখতে না পারে তবে তা তার শিক্ষা এবং সামাজিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অভিভাবকরা প্রায়ই এই প্রশিক্ষণ শুরু করার সঠিক উপায় না জেনে দ্বিধায় থাকেন। এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই পটির ব্যবহার সম্পর্কে গল্পের মতো করে বোঝাতে হবে এবং নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তাকে স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।
