রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার: কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার: কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?

গর্ভাবস্থায় সুষম খাবার

গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের পুষ্টি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং গর্ভস্থ সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে মা যা গ্রহণ করেন, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিশুর ওপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং পুষ্টিবিদদের দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসেও গর্ভবতী মায়েদের খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের অভাব একটি বড় উদ্বেগের কারণ।

 অনেকেই মনে করেন গর্ভাবস্থায় ‘দুজনের খাবার’ খেতে হবে, যা আসলে একটি ভুল ধারণা। খাবারের পরিমাণ নয় বরং খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করাই এই সময়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

খাদ্য তালিকায় প্রথমেই থাকা উচিত ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। সবুজ শাকসবজি, ডাল, কলিজা এবং রঙিন ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন পাওয়া যায় যা শিশুর জন্মগত ত্রুটি রোধে সাহায্য করে। হাড়ের গঠন মজবুত করতে প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস দুধ বা দই খাওয়া জরুরি। 

এছাড়া মাছ, মাংস এবং ডিম প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। তবে সমুদ্রের মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ কিছু মাছে পারদের (Mercury) মাত্রা বেশি থাকতে পারে যা শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। এনএইচএস (NHS) এর পরামর্শ অনুযায়ী, ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন চা বা কফি দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়।

গর্ভাবস্থায় খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি পান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মা এই সময়ে পানিশূন্যতায় ভোগেন যা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা তৈরি করে। এছাড়া কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ মাংস, পাস্তুরিত নয় এমন দুধ এবং কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। 

খাবারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ও আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মায়ের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন, তাই কোনো বড় ধরণের পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে একটি সুস্থ ও সুন্দর প্রজন্মের নিশ্চয়তা দিতে।

banner
Link copied!