দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃত পাঁচজনের মধ্যে তিন শিশুর ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে, আর বাকি দুজন মারা গেছে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে।
এই নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে যে, মৃতদের মধ্যে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের শিশুর সংখ্যাই বেশি।
বর্তমানে দেশের ৫৬টি জেলা হামের প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৭৬৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩৫৭ জন শিশুর ভর্তির খবর পাওয়া গেছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার আগেই শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে, ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এবারের হামের প্রাদুর্ভাব গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ড. হালিমুর রশীদ জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনের ঘাটতি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু অসংগতির কারণে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেছেন যে, শিশুর উচ্চ তাপমাত্রা, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি এবং শরীরে লালচে র্যাস দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও জনবহুল এলাকাগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।
তবে এর মধ্যে ভ্যাকসিনের মজুদ নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত শিশুদের সঠিক চিকিৎসা প্রদানই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
