রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সঠিক মাত্রায় রোদ শরীরের জন্য কেন জরুরি এবং কতটুকু প্রয়োজন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

সঠিক মাত্রায় রোদ শরীরের জন্য কেন জরুরি এবং কতটুকু প্রয়োজন

মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সূর্যের আলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম হলেও এর সঠিক মাত্রা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, দৈনন্দিন জীবনে সীমিত সময়ের জন্য রোদ পোহানো মানসিক স্বাস্থ্য, ভিটামিন ডি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে অতিরিক্ত রোদ বা দীর্ঘদিন ধরে বিনা সুরক্ষায় রোদে থাকা ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

শরীরে ভিটামিন ডি উৎপাদনের প্রধান উৎস হলো সূর্যের আলো, যা হাড়ের স্বাস্থ্য ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ডি ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, কারণ এটি রক্তনালী প্রসারণে ভূমিকা রাখে। এর ফলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

দিনের আলো বা সূর্যের রশ্মি মানুষের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা মানসিক শান্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষকদের মতে, সকালে বা দুপুরের দিকে পরিমিত রোদ পোহানো মানুষের ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে এবং অবসাদ দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, অপর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণের ফলে নিদ্রাহীনতা ও মানসিক অবসাদের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তবে ত্বকের ধরন ও ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে রোদের প্রয়োজনীয়তা একেক জনের জন্য একেক রকম হয়ে থাকে। ফর্সা ত্বকের অধিকারীদের তুলনায় যাঁদের ত্বক শ্যামলা বা কালচে, তাঁদের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি উৎপাদনে বেশি সময় ধরে রোদ পোহাতে হয়। কারণ মেলানিনের মাত্রা বেশি থাকায় তাঁদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষার প্রয়োজন বোধ করে। তবে সবার জন্যই রোদ পোহানোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

অতিরিক্ত সময় ধরে রোদে অবস্থান করলে ত্বকে রোদে পোড়া দাগ, বার্ধক্যের ছাপ এবং মেলানোমার মতো মারাত্মক ক্যানসার দেখা দিতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্যানসার সচেতনতামূলক প্রচারণায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে সৌর বিকিরণের পরিমাণও দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রোদ পোহানো এবং সতর্কতা অবলম্বন করাই সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।

বিশ্লেষকদের মতে, শৈশব ও কৈশোরে রোদের সংস্পর্শে আসার পরিমাণ ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে। জীবনের প্রথম বিশ বছরে ত্বকে যতটুকু রোদ লাগে, তা পরবর্তীতে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাকে অনেকাংশেই প্রভাবিত করে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের অতিরিক্ত রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ এখন নাগরিকদের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত রোদ সুরক্ষার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সুরক্ষা কৌশলগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোদকে পুরোপুরি বর্জন না করে বরং সচেতনভাবে উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।e

banner
Link copied!