শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবোলা মহামারি বিস্তার

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়েছে নতুন দুই স্বাস্থ্য অঞ্চলে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়েছে নতুন দুই স্বাস্থ্য অঞ্চলে

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস নতুন দুটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র সীমান্তবর্তী দক্ষিণ উবাঙ্গি প্রদেশের বুলু এবং দক্ষিণ সুদান সীমান্তবর্তী হাউট-উয়েলে প্রদেশের দুঙ্গু অঞ্চলে এই নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির সাতটি প্রদেশের মোট ৬৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চল এখন এই মহামারির কবলে পড়ল।

সংক্রমিতদের প্রায় অর্ধেক মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে সাত হাজার ৮৯০ জন নিশ্চিত ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন তিন হাজার ৭৯৯ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে চলমান সশস্ত্র সংঘাত এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুসন্ধান ও সেবাদান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটটি বুন্দিবুগিও ধরনের ভাইরাসের কারণে ঘটছে, যার কোনো অনুমোদিত প্রতিষেধক বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে আন্তর্জাতিকভাবে ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের মহাপরিচালক ডক্টর জিন কাসেয়া জানান, সাত সহস্রাধিক রোগীর বিপরীতে প্রায় চার লাখ ২০ হাজার মানুষের নজরদারির তালিকায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার মানুষের তালিকা করতে পেরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, রোগ যখন সমাজ বা গোষ্ঠী পর্যায়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে তখন সেটিকে আর নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যায় না।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ এখনো মহামারির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

গত মে মাসে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ইতুরিতেই শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ৩২ জন, যার মধ্যে শেষ তিন সপ্তাহে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৮৬৮ জন রোগী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকা উত্তর কিভুতে মোট এক হাজার ৪৮০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটছে সেখানে। উত্তর কিভুতে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৪৮ শতাংশের চেয়েও অনেক বেশি। স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ হাসপাতালে যেতে ভয় পাচ্ছেন কারণ তারা মনে করেন সেখানে গেলে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।

২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল জায়ার স্ট্রেন, যার বিরুদ্ধে চিকিৎসা সহজলভ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান বুন্দিবুগিও ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের মতো হওয়ায় রোগীরা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগে হাসপাতালে আসেন না।

banner
Link copied!