বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০৩০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সার বা সারভিক্যাল ক্যান্সার নির্মূলের লক্ষ্যে দেশটি একটি সফল রোডম্যাপ অনুসরণ করছে, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর জন্য মডেল হিসেবে কাজ করছে। বিবিসি ও এবিসি নিউজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এই উদ্যোগের মূলে রয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা নিবিড় টিকাদান কর্মসূচি এবং উন্নত স্ক্রিনিং পদ্ধতি। ২০০৬ সালে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এইচপিভি প্রতিরোধের জন্য `গার্ডাসিল` নামক একটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন। এর পরের বছরই অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয়ভাবে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। বর্তমানে দেশটির হাইস্কুলগুলোতে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই সফলতার গল্পে মিশে আছে ক্রিসি ওয়াল্টার্সের মতো হাজারো মানুষের লড়াই। ৩৯ বছর বয়সে অ্যাডভান্সড সারভিক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া ক্রিসি বর্তমানে তার জীবনের শেষ সময় পার করছেন। তবে তার ১২ বছর বয়সী কন্যা এই প্রজন্মের অংশ, যারা এই টিকার কল্যাণে এই মরণব্যাধি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে বলে আশা করছে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কারেন ক্যানফেল জানান, একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্যান্সারকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আর থাকতে দেওয়া হবে না।
অস্ট্রেলিয়ার এই দুই স্তরের পদ্ধতিতে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি উন্নত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে দেশটি প্রথাগত প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষার বদলে আরও সংবেদনশীল এইচপিভি-ভিত্তিক স্ক্রিনিং চালু করেছে, যা প্রতি পাঁচ বছরে একবার করলেই চলে। এছাড়া নারীদের জন্য নিজেরাই নমুনা সংগ্রহের (Self-collection) সুবিধা চালু করা হয়েছে, যা চিকিৎসা সেবা পেতে বাধা বা সংকোচ দূর করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, যদি কোনো দেশে প্রতি লাখে চারজন বা তার কম নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তবে তাকে `নির্মূল` হিসেবে গণ্য করা যায়। অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে সেই লক্ষ্যমাত্রার অত্যন্ত কাছাকাছি রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ছেলেদেরও এই টিকার আওতায় আনা হয়েছে, কারণ তারা এই ভাইরাসের বাহক হতে পারে। এই বৈশ্বিক লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সফলতা প্রমাণ করে যে, সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সরকারি সদিচ্ছা থাকলে ক্যান্সারমুক্ত সমাজ গঠন করা অসম্ভব নয়।
