রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে ঐতিহাসিক ৩টি জাহাজডুবি ও তা দেখার উপায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে ঐতিহাসিক ৩টি জাহাজডুবি ও তা দেখার উপায়

ব্রিটিশ উপকূলের ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ ‍। Ai ছবি

একটি দ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে ব্রিটিশ ইতিহাসের পরতে পরতে সমুদ্র ও নৌযানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার প্রমাণ পাওয়া যায় ইংল্যান্ডের উপকূলে রেকর্ডকৃত ৩৭ হাজারেরও বেশি জাহাজডুবির ঘটনায়। হিস্টোরিক ইংল্যান্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই ধ্বংসাবশেষগুলো কয়েকশ বছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ভয়াবহ যুদ্ধ এবং সামুদ্রিক অভিযানের সাক্ষী হয়ে সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে। বিশেষ করে দক্ষিণ উপকূলে এমন কিছু বিখ্যাত জাহাজডুবির স্থান রয়েছে যা ইতিহাসের পাঠকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিবিসির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের তিনটি প্রভাবশালী জাহাজডুবির ঘটনা এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।

রাজা অষ্টম হেনরির প্রিয় যুদ্ধজাহাজ ‍‍`মেরি রোজ‍‍` এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ১৫১০-১১ সালে পোর্টসমাউথে নির্মিত এই জাহাজটি ফ্রান্স ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৫৪৫ সালে সোলেন্টের যুদ্ধে এটি ডুবে যায়। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার কারণ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, বাতাসের তীব্র ঝাপটায় জাহাজের বন্দুকের ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে এটি তলিয়ে গিয়েছিল। ১৯৮২ সালের ১১ অক্টোবর এটি সমুদ্রের তলদেশ থেকে উত্তোলন করা হয় এবং বর্তমানে পোর্টসমাউথ হিস্টোরিক ডকইয়ার্ডে এটি জনসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে। সমুদ্র প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে মেরি রোজ উত্তোলনকে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ৮২৩ জন সৈন্য বহনকারী স্টিমশিপ ‍‍`এসএস মেন্ডি‍‍`র ডুবে যাওয়া ব্রিটিশ ইতিহাসের একটি অত্যন্ত শোকাবহ ঘটনা। ১৯১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি বড় মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় আইল অফ উইটের কাছে এটি মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে তলিয়ে যায়। এতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় ৬৫০ জন আদিবাসী সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই স্থানটিকে অফিশিয়াল সামরিক কবরস্থান হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৮ সালে জাহাজটির উদ্ধার হওয়া ঘণ্টা দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত দেওয়া হয়। বর্তমান সময়েও এই ধ্বংসাবশেষটি সমুদ্রের তলদেশে খাড়া অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

এ ছাড়া রাজা পঞ্চম হেনরির ফ্ল্যাগশিপ ‍‍`গ্রেস ডিউ‍‍` জাহাজটি মাত্র একবার সাগরে ভাসলেও এর ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ১৪১৮ সালে এটি চালু করা হলেও ১৪২০ সালের প্রথম সমুদ্রযাত্রাতেই ক্রুদের বিদ্রোহের কারণে অভিযান বাতিল করতে হয়েছিল। রাজা পঞ্চম হেনরির মৃত্যুর পর জাহাজটি হ্যাম্বল নদীতে রাখা হয়, যেখানে ১৪৩৯ সালে বজ্রপাতে আগুন ধরে এটি ডুবে যায়। বর্তমানে সাউদাম্পটনের কাছে বার্সলেডন এলাকায় হ্যাম্বল নদীর ভাঁটার সময় এই জাহাজের অবশিষ্টাংশগুলো আজও দেখা যায়। এই ধ্বংসাবশেষগুলো ব্রিটিশ নৌ-শক্তির উত্থান এবং পতনের এক অনন্য স্মারক হিসেবে টিকে আছে।

banner
Link copied!