যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ সিনেটে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর অভিবাসন ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থাগুলোর জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল পরিকল্পনা পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ৫০-৪৮ ভোটে রিপাবলিকানদের এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। মূলত গত ফেব্রুয়ারি থেকে আংশিক বন্ধ থাকা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) পুনরায় সচল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং রয়টার্স জানিয়েছে।
এই তহবিলের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং বর্ডার পেট্রোলের কার্যক্রমে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেত্তি নামে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা নীতি পরিবর্তনের দাবি তোলে। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় গত দুই মাস ধরে বিভাগটির অর্থায়ন বন্ধ ছিল। রিপাবলিকানরা এবার `বাজেট রিকনসিলিয়েশন` প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে এই বিলটি এগিয়ে নিয়েছেন।
সিনেট মেজরিটি লিডার জন থিউন এই জয়কে দেশের সীমান্ত সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের বাধার মুখেও রিপাবলিকানরা সীমান্ত রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক লিডার চাক শুমার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, রিপাবলিকানরা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর চেয়ে আইসিই-এর মতো বিতর্কিত সংস্থায় বিলিয়ন ডলার ঢালতে বেশি আগ্রহী।
এই ৭০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাটি আগামী তিন বছরের জন্য আইসিই এবং বর্ডার পেট্রোলের খরচ বহন করবে। বিলটি এখন প্রতিনিধি সভায় (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদিত হলে এটি স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যাবে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই ফান্ডের বিরোধিতা করে অভিযোগ করেছে যে, এর ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ এবং ধরপাকড় আরও বাড়বে। তবে রিপাবলিকানদের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অর্থায়ন অপরিহার্য।
