যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) নির্বাসিত ১৫ জন দক্ষিণ আমেরিকান অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী বর্তমানে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন বলে জানা গেছে। রয়টার্স এবং এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে কলম্বিয়া, পেরু এবং ইকুয়েডরের একদল নারীকে মধ্য আফ্রিকার এই দেশে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই তাদের ওপর নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২৯ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নারী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কঙ্গোর ভাষা বা সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই এবং সেখানে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বর্তমানে তাদের সামনে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাখা হয়নি। অথচ তাদের অনেকেই নিজের দেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। এক মার্কিন অভিবাসন বিচারক ২০২৫ সালে রায় দিয়েছিলেন যে, ওই নারীকে কলম্বিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে তিনি নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। তা সত্ত্বেও তাকে কঙ্গোতে নির্বাসিত করা হয়েছে।
মানবাধিকার আইনজীবীরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই `থার্ড-কান্ট্রি` বা তৃতীয় দেশ চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা মনে করেন, অভিবাসীদের এমন কোনো অজানা পরিবেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেখানে তারা টিকে থাকতে পারবে না এবং শেষ পর্যন্ত ভয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে। গ্যাব্রিয়েলা নামে ৩০ বছর বয়সী এক নারী জানান, কঙ্গোর ফ্লাইটে তোলার মাত্র একদিন আগে তাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল এবং পুরো ২৭ ঘণ্টার যাত্রাপথে তাদের হাত ও পা শেকল দিয়ে বাঁধা ছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। এমনকি যাদের বৈধ আইনি আবেদনের সুযোগ ছিল, তাদেরও গণহারে বহিষ্কার করা হচ্ছে। আইনজীবী আলমা ডেভিডের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আশা ত্যাগ করে। কঙ্গোর মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও মানবাধিকার সংকটে থাকা একটি দেশে অপরিচিত অভিবাসীদের নির্বাসন আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
