ইসরায়েলের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অত্যন্ত লাভজনক বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করার একটি জোরালো প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে। স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়া এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করলেও জার্মানি ও ইতালির ভেটোর কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। বুধবার আল জাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।
বর্তমানে ইসরায়েল ও ইইউ-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ৪২.৬ বিলিয়ন ইউরো। ২০০০ সালে স্বাক্ষরিত `ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন এগ্রিমেন্ট` অনুযায়ী ইসরায়েল ইউরোপের বাজারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়ে থাকে। চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক বজায় থাকবে। তবে গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের ফলে এই শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা উপেক্ষা করলে ইইউ-এর নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা হুমকিতে পড়বে। অন্যদিকে, জার্মানি এই পদক্ষেপকে `অনুপযুক্ত` বলে অভিহিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ও হলোকাস্টের দায়বদ্ধতা। বিপরীতে আয়ারল্যান্ড ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে তাদের নিজেদের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট থেকে দেখে থাকে।
চুক্তিটি পুরোপুরি স্থগিত করতে ২৭টি সদস্য দেশের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন, যা বর্তমানে অসম্ভব। তবে গবেষকদের মতে, ইউরোপীয় নাগরিকদের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী জনমত প্রবল হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই চুক্তি স্থগিতের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন। সরকারি পর্যায়ে ঐকমত্য না হলেও ইতালি তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করেছে এবং ফ্রান্স বসতি স্থাপনকারীদের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর দাবি তুলছে। ইইউ-এর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখন ওপর তলার সিদ্ধান্তের চেয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে ইসরায়েলকে বয়কটের চাপ জোরালো হচ্ছে।
