রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

কারাগার থেকে গৃহবন্দিত্বে অং সান সু চি: মিয়ানমার জান্তার ঘোষণা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

কারাগার থেকে গৃহবন্দিত্বে অং সান সু চি: মিয়ানমার জান্তার ঘোষণা

মিয়ানমারের বন্দি গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৮০ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ীকে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজধানী নে পি ত-র একটি সামরিক কারাগারে রাখা হয়েছিল। জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে সু চি-র বাকি সাজা এখন থেকে নির্দিষ্ট একটি বাসভবনে কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই স্থানান্তরের খবর নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।

সু চি-র ছেলে কিম আরিস এই ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। লন্ডনে বসবাসরত আরিস বিবিসির কাছে দাবি করেছেন যে তার মা এখনো বেঁচে আছেন কি না সে বিষয়েও তার কাছে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সু চি-র একটি ছবি প্রচার করা হলেও আরিস বলছেন সেই ছবিটি ২০২২ সালের পুরনো। তিনি আরও জানান যে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তার পরিবারের কেউ সু চি-র সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি পায়নি। তাই সু চি-র বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীন কোনো উৎস থেকে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি জান্তা সরকারের এই দাবি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই পদক্ষেপের পেছনে জান্তা সরকারের গভীর কোনো কৌশল রয়েছে। সু চি-র সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা শন টার্নেল জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়া মিয়ানমার সরকার এখন নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারে মরিয়া। সম্প্রতি বিদ্রোহীদের কাছে বেশ কিছু লড়াইয়ে হেরে যাওয়া এবং দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে সামরিক জান্তা বিশ্বকে দেখাতে চাইছে যে তারা একটি বৈধ ও নমনীয় সরকার। টার্নেলের মতে সু চি-কে গৃহবন্দি করা আসলে জান্তা সরকারের একটি জনসংযোগ বা পিআর কৌশলের অংশ হতে পারে।

২০২১ সালে অং সান সু চি-র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে তাকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচারকে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারাগারে সু চি-র থাকার পরিবেশকে মধ্যযুগীয় এবং অত্যন্ত কষ্টকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার সাবেক সহবন্দিরা। সেখানে সু চি-কে জরাজীর্ণ কক্ষে রাখা হয়েছিল যেখানে পর্যাপ্ত খাবার বা চিকিৎসা সেবার অভাব ছিল। ৮০ বছর বয়সে এমন পরিবেশে থাকা তার জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি ছিল বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

অং সান সু চি এক সময় মিয়ানমারের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে নন্দিত ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি যখন গৃহবন্দি ছিলেন তখন তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে আন্তর্জাতিক আদালতে সমর্থন করায় তার সেই ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। তবুও মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের কাছে এখনো তিনি এক বিশাল ছায়া হয়ে আছেন। জান্তা সরকার হয়তো তাকে কারাগার থেকে সরিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করছে। তবে পূর্ণ মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট কাটবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

banner
Link copied!