রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হাদিসের কথা

রাসূল (সা.)-এর খাওয়ার ধরণ: আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর উপকারিতা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

রাসূল (সা.)-এর খাওয়ার ধরণ: আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর উপকারিতা

খাবারের সুন্নাহ ও আদব Ai ছবি

দৈনন্দিন জীবনে সুস্থতা ও আত্মিক প্রশান্তির জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য। খাবার গ্রহণ কেবল ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয় বরং এটি একটি ইবাদত যদি তা সঠিক নিয়ম বা সুন্নাত অনুযায়ী পালন করা হয়। ইসলামী শরিয়তে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট আদব ও সুন্নাত বর্ণিত হয়েছে যা পালন করলে খাবারে বরকত বৃদ্ধি পায় এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত হয়। 

সহীহ হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে প্রমাণিত যে খাবার খাওয়ার আগে দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এটি জীবাণুমুক্ত থাকতে সাহায্য করে এবং রাসূল (সা.) এটি নিয়মিত পালন করতেন।

খাবার শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ বলা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত যা শয়তানের অংশগ্রহণ থেকে খাবারকে রক্ষা করে। সহীহ আল-বুখারীর বর্ণনায় এসেছে যে রাসূল (সা.) খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে এবং ডান হাত দিয়ে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন (সহীহ আল-বুখারী, ৫৩৭৬)। যদি কেউ শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে মনে পড়ার সাথে সাথে ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’ বলা উচিত। 

এছাড়া খাওয়ার সময় দস্তরখান ব্যবহার করা এবং মাটিতে বসে খাওয়া বিনয় ও সুন্নাতের পরিচায়ক। দস্তরখান ব্যবহার করলে খাবারের অপচয় রোধ হয় যা ইসলামের একটি মূল শিক্ষা।

খাবার খাওয়ার সময় ডান হাত ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক এবং এটি একটি বিশেষ সুন্নাত। রাসূল (সা.) বাম হাত দিয়ে খাবার গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন কারণ এটি শয়তানের পদ্ধতি বলে হাদীসে উল্লেখ আছে (সহীহ মুসলিম, ২০২০)। খাবারের সময় নিজের সামনের অংশ থেকে খাওয়া শুরু করা উচিত এবং পাত্রের মাঝখান থেকে না খাওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ খাবারের বরকত পাত্রের মাঝখানে নাযিল হয়। 

পাশাপাশি খাবার খাওয়ার সময় খুব বেশি হেলান দিয়ে না বসা এবং খাবারের দোষত্রুটি না ধরাও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ছিল। যদি খাবার ভালো লাগে তবে তিনি খেতেন আর পছন্দ না হলে চুপ থাকতেন কিন্তু কখনো নিন্দা করতেন না।

খাবার শেষে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা বা আলহামদুলিল্লাহ বলা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। খাওয়ার পর হাত ধোয়া এবং কুলি করাও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাত যা মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। সহীহ হাদীস অনুযায়ী খাবার শেষে দস্তরখান বা পাত্রে লেগে থাকা খাবার আঙ্গুল দিয়ে মুছে পরিষ্কার করা উচিত যাতে অপচয় না হয়। বর্তমান বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও খাওয়ার এই পদ্ধতিগুলো হজম শক্তি বৃদ্ধি এবং পেটের রোগ প্রতিরোধে সহায়ক বলে প্রমাণিত। 

প্রতিটি মুমিনের উচিত তাদের পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে শিশুদের এই সুন্নাতগুলো শিক্ষা দেওয়া যাতে তারা শৈশব থেকেই একটি আদর্শিক জীবনযাপন করতে পারে।

banner
Link copied!