রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

লাউ ও গোশত একসাথে খাওয়ার ফজিলত ও সুন্নাত: একটি বিশেষ প্রতিবেদ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

লাউ ও গোশত একসাথে খাওয়ার ফজিলত ও সুন্নাত: একটি বিশেষ প্রতিবেদ

লাউ ও গোশতের সুন্নাহ সম্মত খাবার

আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল লাউ বা কদু। সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি শুধু লাউ পছন্দই করতেন না, বরং খাবার পাত্রের চারপাশ থেকে লাউয়ের টুকরোগুলো খুঁজে নিয়ে আগ্রহের সাথে খেতেন। 

তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে, লাউয়ের সাথে অন্য কোনো খাবার মিলিয়ে খাওয়া কি সুন্নাত কি না। সহিহ বুখারীর ৫৪৩৬ নম্বর হাদিস থেকে জানা যায় যে, নবিজি (সা.) লাউ সাধারণত ঝোল বা স্যুপ জাতীয় তরকারিতে গোশতের সাথে মিলিয়ে খেতে পছন্দ করতেন।

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, একবার এক দর্জি নবিজি (সা.)-কে খাবারের দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেখানে যবের রুটির সাথে এমন একটি ঝোল বা মরাক (soup) পরিবেশন করা হয়েছিল যাতে লাউ এবং শুকানো গোশতের টুকরো ছিল।

 আনাস (রা.) বলেন, ‍‍`আমি নবিজি (সা.)-কে পাত্রের চারপাশ থেকে লাউয়ের টুকরোগুলো খুঁজে খেতে দেখেছি।‍‍` সেই সময় থেকেই হজরত আনাস (রা.) নিজেও লাউয়ের প্রতি বিশেষভাবে অনুরাগী হয়ে ওঠেন।

সুন্নাহর আলোকে লাউ খাওয়ার ক্ষেত্রে যবের রুটি (Barley bread) একটি অন্যতম অনুষঙ্গ। এছাড়া লাউ দিয়ে গোশত রান্না করা কেবল স্বাদই বাড়ায় না, বরং এটি মহানবি (সা.)-এর একটি বিশেষ পছন্দীয় খাদ্যাভ্যাস। শামায়েলে তিরমিযির বর্ণনা অনুযায়ী, নবিজি (সা.) অনেক সময় খাবার খাওয়ার সময় ডান হাত ব্যবহার করে পাত্রের নিজের দিক থেকে খেতে বলতেন, তবে লাউয়ের ক্ষেত্রে তিনি পুরো পাত্র থেকে খুঁজে নিতেন কারণ এটি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ছিল।

 বর্তমান সময়ের পুষ্টিবিদরাও লাউ ও গোশতের এই সমন্বয়কে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও সহজপ্রাচ্য বলে মনে করেন। নবিজির এই খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা মুমিনদের জন্য কেবল সওয়াবের কাজই নয়, বরং এটি একটি সুষম খাদ্যতালিকারও অংশ।

banner
Link copied!