শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই বলে ২০ এপ্রিলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে কালের কণ্ঠ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে মানুষের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই পানি, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য নিষ্কাশনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কিডনি পাথর, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং ত্বকের রুক্ষতা দেখা দিতে পারে। সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালে খালি পেটে পানি পান করলে বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম দ্রুত হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
মেডিকেল নিউজ টুডে-র এক নিবন্ধ অনুযায়ী, পানি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না বরং এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হলে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পানের পরামর্শ দিচ্ছেন, তবে অতিরিক্ত পানি পানের ফলে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বা হাইপোনাট্রেমিয়া সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন। ২০২৬ সালের এই গরমে সুস্থ থাকতে ফলের রস বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়র চেয়ে বিশুদ্ধ পানিকেই প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসলামিক জীবনদর্শনেও পানি পানের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা সুন্নাহ রয়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে দারুণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছে (সহীহ মুসলিম, ২০২৬)।
চিকিৎসকদের মতে বসে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে না গিয়ে ধীরে ধীরে শোষিত হয় যা কিডনির জন্য নিরাপদ। এছাড়া তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করা এবং পান করার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ ও শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ (সহীহ আল-বুখারী, ৫৬৩১)।
২০২৬ সালের রমজান পরবর্তী সময়ে শরীরের পানি শূন্যতা দূর করতে তাজা ফলমূল এবং শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য খাবারের আগে পানি পান করা একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
পানি পানের এই অভ্যাসগুলো কেবল শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না বরং সুন্নাহ পালনের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক সওয়াবও বয়ে আনে। নিয়মিত বিরতিতে অল্প অল্প করে পানি পান করাই শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়।
