পবিত্র কুরআন মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা কিয়ামত পর্যন্ত অনাগত সকল মানুষের জন্য মুক্তির একমাত্র গাইড হিসেবে স্বীকৃত। এই মহাগ্রন্থটি আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে আরবের মরুপ্রান্তরে নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হয়।
কুরআনের প্রথম ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনো মানুষের রচনা নয় বরং এটি সরাসরি স্রষ্টার বাণী যা আজ পর্যন্ত একটি অক্ষরও পরিবর্তিত হয়নি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন যে এটি এমন একটি কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং এটি মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক (সূরা আল-বাকারা, ২:২)।
এই একটি ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট হয় যে এই কিতাবটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো সময়ের জন্য নয় বরং এটি সর্বকালের জন্য এক নির্ভুল জীবনব্যবস্থা।
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের মাহাত্ম্য অতুলনীয় কারণ এটি পূর্ববর্তী সকল কিতাবের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর সারসংক্ষেপ ধারণ করে। অনেক সময় মানুষ কুরআনের ভাষাশৈলী এবং এর বৈজ্ঞানিক তথ্যের নির্ভুলতা দেখে বিস্মিত হয় যা আধুনিক বিজ্ঞান কেবল সম্প্রতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে।
সহীহ বুখারীর একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রতিটি নবিকেই কোনো না কোনো মুজিযা বা অলৌকিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল তবে নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর শ্রেষ্ঠ মুজিযা হলো এই কুরআন (সহীহ আল-বুখারী, ৪৯৮১)। এটি পড়ার মাধ্যমে যেমন সওয়াব হাসিল হয় তেমনি এর বিধান মেনে চলার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত কুরআনের প্রতিটি আয়াত মানুষের আত্মিক রোগ থেকে শুরু করে সামাজিক জটিলতার সমাধান দিয়ে থাকে।
বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে কুরআনের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। এটি কেবল পরকালীন মুক্তি নয় বরং দুনিয়াতে কীভাবে একজন আদর্শ মানুষ হওয়া যায় সেই শিক্ষা দেয়।
কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে এই পথটিই হলো সবচেয়ে সরল ও সঠিক পথ (সূরা আল-ইসরা, ১৭:৯)। যে কেউ এই কিতাবের সান্নিধ্যে আসবে সে তার জীবনে এক ধরণের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাবে যা অন্য কোনো পার্থিব উপায়ে পাওয়া সম্ভব নয়। কুরআনের শিক্ষাগুলো যদি আমরা ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ করতে পারি তবেই এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে কুরআন কেবল তাকের ওপর সাজিয়ে রাখার জন্য নয় বরং এটি জীবনের প্রতিটি মোড়ে আলো দেখানোর জন্য প্রেরিত হয়েছে যা চিরকাল সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েই থাকবে।
