রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হতে পারে?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হতে পারে?

ইসলামি জীবনবিধানে মা-বাবার ওপর সন্তানের সঠিক লালন-পালনের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সন্তান কোনো অন্যায় বা পাপাচার করলে তার দায়ভার মা-বাবার ওপর বর্তাবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলেমদের ভাষ্য হলো, মা-বাবা যদি সন্তানকে সঠিক শিক্ষা না দেন তবে পরকালে এর দায় তাদের নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ করেছেন যে তোমরা তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও (সূরা তাহরিম, ৬৬:৬)। এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে পরিবারকে সঠিক পথে রাখা মা-বাবার অন্যতম প্রধান ইবাদত।

মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে সচেতনতা মুমিনের অন্যতম গুণ। মৃত্যুর পর মানুষের সামনে তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল তুলে ধরা হয়। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী জান্নাতি হলে জান্নাতের এবং জাহান্নামী হলে জাহান্নামের স্থান তাকে দেখানো হয় (সহীহ তিরমিজি, ১০৭২)। তবে সন্তানের কর্মের জন্য মা-বাবার শাস্তির বিষয়টি সরাসরি তাদের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল। যদি কোনো মা-বাবা সন্তানকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রদান করেন এবং পাপাচার থেকে বিরত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, তবে সন্তানের ব্যক্তিগত ভুলের জন্য তারা দায়ী হবেন না। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।

মা-বাবার ওপর শাস্তির বিধান তখনই কার্যকর হতে পারে যখন তারা জেনেবুঝে সন্তানকে পাপাচারের প্রতি উৎসাহিত করেন কিংবা অন্যায় কাজে সমর্থন দেন। হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে যে কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে সে তার নিজের গোনাহের পাশাপাশি অনুসারীদের গোনাহের অংশীদারও হবে (ইবনে মাজাহ, ২০৩)। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানকে ধর্মীয় শাসন না করায় তারা পথভ্রষ্ট হয়। এমন অবহেলার কারণে মা-বাবাকে কবরে কিংবা হাশরের ময়দানে জবাবদিহি করতে হতে পারে।

বিশিষ্ট আলেমদের মতে মা-বাবা তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকার পরও যদি সন্তান বিপথে যায়, তবে সেই পাপের শাস্তি কেবল সন্তানই ভোগ করবে। সন্তানের নেক আমল যেমন মা-বাবার জন্য সদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে কাজ করে, তেমনি তাদের অবহেলাজনিত মন্দ শিক্ষা মা-বাবার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে মানুষের মৃত্যুর পর তিনটি আমল জারি থাকে যার মধ্যে একটি হলো নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। তাই মা-বাবার উচিত সন্তানকে এমনভাবে গড়ে তোলা যেন তারা পরকালের পাথেয় হতে পারে।

banner
Link copied!