মক্কাতুল মুকাররমায় মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে প্রথমবার কাবা শরীফের ওপর দৃষ্টি পড়লে বিশেষ দোয়া পাঠের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। প্রখ্যাত তাবেঈ মাকহুল (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহর রাসুল (সা.) কাবা দেখে দোয়া করতেন যেন আল্লাহ এই পবিত্র ঘরের সম্মান, মর্যাদা ও মহিমা আরও বাড়িয়ে দেন। দোয়ার মূল বক্তব্য হলো আল্লাহ যেন এই ঘরকে ভয়-ভক্তি ও পুণ্যের কেন্দ্র হিসেবে কবুল করেন এবং যারা হজ বা উমরা করতে আসেন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। ইবনে হাজার আসকালানি তার তালখিসুল হাবীর গ্রন্থে এই বর্ণনার উল্লেখ করেছেন।
এই দোয়াটির উচ্চারণ হলো আল্লাহুম্মা যিদ হাযাল বাইতা তাশরীফান ওয়া তা`যীমান ওয়া তাকরীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া যিদ মিন শারাফিহি ওয়া ই`যামিহি মিম্মান হাজ্জাহূ আও ই`তামারাহূ তাশরীফান ওয়া তাকরীমান ওয়া তা`যীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া বিররান।
পবিত্র কাবা তাওয়াফের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয় তবে রাসুল (সা.) থেকে কিছু জিকির ও দোয়া বর্ণিত হয়েছে। তাওয়াফের প্রতিটি চক্কর শুরুর সময় হাজরে আসওয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলা সুন্নত। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী নবিজি (সা.) উটের পিঠে তাওয়াফ করার সময় হাজরে আসওয়াদ বরাবর পৌঁছালে লাঠি দিয়ে ইশারা করে তাকবির পাঠ করতেন। এটি তাওয়াফের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোকন যা হাজিদের জন্য অনুসণীয়। এর বাইরে তাওয়াফের সময় যে কোনো উত্তম দোয়া বা জিকির করার অবকাশ রয়েছে।
তাওয়াফের একটি বিশেষ স্থানে সুনির্দিষ্ট দোয়া পড়ার কথা সুনানে আবু দাউদে উল্লেখ করা হয়েছে। রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদের দিকে যাওয়ার সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২০১ নম্বর আয়াতটি পাঠ করতেন। রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাহ ওয়া কিনা আযাবান-নার দোয়াটির মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। এটি মূলত তাওয়াফের একটি অত্যন্ত বরকতময় অংশ যা মুমিনদের জন্য ইহকাল ও পরকালের মুক্তির শিক্ষা দেয়।
