রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

অহংকার কেন মানুষের জন্য এক ঘাতক ব্যাধি? জানুন ইসলামের ব্যাখ্যা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১২:০১ এএম

অহংকার কেন মানুষের জন্য এক ঘাতক ব্যাধি? জানুন ইসলামের ব্যাখ্যা

ইসলামি দর্শনে অহংকারকে একটি ঘাতক ব্যাধি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি মানুষের অন্তরাত্মাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয় এবং তাকে স্রষ্টার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার প্রকাশ করে তাদের তিনি তাঁর নিদর্শনাবলি থেকে বিমুখ করে রাখবেন (সূরা আ‘রাফ, ৭:১৪৬)। এই চারিত্রিক ত্রুটি ইবলিশকে শয়তানে পরিণত করেছে এবং তাকে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত করেছে। সূরা আন-নাহলের ২৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না এবং সত্যের বিরুদ্ধে দম্ভ প্রদর্শনকারীর ঈমান কোনো কাজে আসে না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) অহংকারের পরিণাম সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী প্রদান করেছেন। সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে যার অন্তরে এক বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। নবীজি (সা.) এর এই বক্তব্যের পর যখন সাহাবায়ে কেরাম সুন্দর পোশাক বা জুতা পরার বিষয়ে জানতে চান তখন তিনি স্পষ্ট করেন যে আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হলো সত্যকে গোপন করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা। এই ব্যাখ্যাটি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রান্ত ধারণা দূর করে এবং আধ্যাত্মিক সতর্কতার নতুন পথ দেখায়।

দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার ক্ষেত্রেও বিনয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। সূরা লোকমানের ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে মানুষ যেন অহংকারবশত অন্যকে অবজ্ঞা না করে এবং পৃথিবীতে দম্ভের সাথে পদচারণা না করে। সহীহ মুসলিমের অন্য একটি হাদিসে আল্লাহ তায়ালা মহত্বকে তাঁর পরিচয় এবং অহংকারকে তাঁর চাদর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে যে কেউ যদি এই দুটি বিষয় নিয়ে আল্লাহর সাথে টানাটানি করে তবে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সুতরাং অহংকার কেবল একটি নৈতিক অপরাধ নয় বরং এটি আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সাথে এক ধরণের ধৃষ্টতা যা মানুষের ইহকাল ও পরকাল উভয়ই ধ্বংস করতে সক্ষম।

banner
Link copied!