রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

মহানবী (সা.) কখন মিসওয়াক করতেন? সুন্নাহর আলোকে জেনে নিন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১২:১১ এএম

মহানবী (সা.) কখন মিসওয়াক করতেন? সুন্নাহর আলোকে জেনে নিন

ইসলামি জীবনবিধানে পরিচ্ছন্নতা কেবল একটি ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, বরং এটি ইবাদতের অন্যতম অনুষঙ্গ। মহানবী (সা.) তাঁর সারা জীবনে মুখ গহ্বরের পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ জোর দিতেন এবং মিসওয়াক করা ছিল তাঁর অন্যতম প্রিয় আমল। মিসওয়াক মূলত দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করার একটি প্রাকৃতিক মাধ্যম, যা রাসূল (সা.)-এর জীবনে অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছিল। সহীহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, আমির ইবন রাবিআহ (রা.) তাঁকে সিয়াম বা রোজা অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছেন। কেবল দাঁত নয়, রাসূল (সা.) মিসওয়াকের মাধ্যমে তাঁর জিহ্বাও পরিষ্কার করতেন বলে আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে জানা যায়।

রাসূল (সা.)-এর প্রাত্যহিক জীবনে কয়েকটি বিশেষ সময়ে মিসওয়াক করার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, নবীজি (সা.) ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) জানিয়েছেন যে রাসূল (সা.) ঘুমানোর সময় তাঁর মিসওয়াকটি পাশেই রাখতেন যাতে জাগ্রত হয়েই তিনি দাঁত পরিষ্কার করতে পারেন। এই অভ্যাসটি কেবল শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং ঘুমের পরবর্তী মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার একটি আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়াও বটে।

পারিবারিক জীবনেও রাসূল (সা.) এই আমলের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) যখনই বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করতেন, প্রথমেই তিনি মিসওয়াক করে নিতেন। এছাড়া প্রত্যেক সালাত বা নামাজের আগে ওজু করার সময়ও তিনি মিসওয়াক করতেন। তাঁর এই নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার রাখা এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর আগে নিজেকে পরিপাটি করার গুরুত্ব ফুটে ওঠে। এমনকি জীবনের অন্তিম মুহূর্তেও তিনি এই সুন্নাহ ত্যাগ করেননি। আয়েশা (রা.)-এর কোলে মাথা রাখা অবস্থায় মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও তিনি অত্যন্ত যত্নের সাথে মিসওয়াক করেছিলেন, যা তাঁর জীবনের শেষ উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি ছিল।

banner
Link copied!