রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

মক্কা ও মদিনায় অবস্থানকালে যে আমলগুলো বেশি করবেন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১২:১৪ এএম

মক্কা ও মদিনায় অবস্থানকালে যে আমলগুলো বেশি করবেন

হজ্জ ও ওমরাহ মুমিন জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পাথেয় এবং এই সফরের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। ২০২৬ সালের হজ্জ মৌসুম সামনে রেখে অনেক যাত্রী ইতিমধ্যেই পবিত্র মক্কা ও মদিনার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মক্কা ও মদিনায় অবস্থানকালে যে আমলগুলো বেশি করবেন তা জেনে নেওয়া প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য জরুরি কারণ এই পবিত্র ভূমিগুলোতে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে মসজিদুল হারামে এক ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব অন্য মসজিদের তুলনায় এক লাখ গুণ বেশি বলে সহিহ হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজের প্রতিও বিশেষ যত্নশীল হওয়া উচিত।

মক্কার অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো পবিত্র কাবা শরীফকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করা। অভিজ্ঞ আলেমদের মতে মসজিদুল হারামে নফল নামাজের চেয়ে বেশি বেশি নফল তাওয়াফ করা অনেক ক্ষেত্রে অধিক সওয়াবের কাজ। সূরা হজ-এর ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর ঘরকে পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাদের জন্য যারা তাওয়াফ করে এবং রুকু ও সিজদা করে। এছাড়া এই সফরে জমজমের পানি পেটভরে পান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) এই পানিকে রোগের প্রতিষেধক এবং বরকতপূর্ণ খাদ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুযোগ থাকলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা বা ইশারা করা এবং রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করার মাধ্যমে সুন্নাহ অনুসরণ করা যায়।

এদিকে মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থানের সময় মসজিদে নববীতে ইবাদতের প্রতি আলাদা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেখানে এক ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব অন্য মসজিদের তুলনায় এক হাজার গুণ বেশি যা সহিহ বুখারির ১১৯০ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মদিনা হলো শান্তির শহর এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান। তাই এখানে অবস্থানের সময় নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে কেউ তাঁর রওজায় সালাম পেশ করলে তিনি সেই সালামের জবাব দেন। রওজা শরীফ জিয়ারত করা এবং রিয়াজুল জান্নাতে দোয়া করার চেষ্টা করা উচিত কারণ এটি জান্নাতের বাগানগুলোর মধ্যে একটি।

মদিনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করতে হাজিদের উচিত সেখানকার স্মৃতিধন্য স্থানগুলো পরিদর্শন করা। বিশেষ করে মসজিদে কুবায় দুই রাকাত নামাজ আদায় করা একটি ওমরাহর সওয়াব বহন করে বলে হাদিসে এসেছে। এছাড়া জান্নাতুল বাকি কবরস্থান জিয়ারত এবং উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য দোয়া করা রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। মক্কা ও মদিনায় অবস্থানকালে যে আমলগুলো বেশি করবেন তার মধ্যে দোয়া কবুলের বিশেষ স্থানগুলোতে বেশি বেশি প্রার্থনা করা অন্যতম। মুলতাজিম, মিজাবে রহমত এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে দোয়া করার সময়গুলো অত্যন্ত বরকতময়। আল্লাহ যেন সকল হজযাত্রীর হজ্জ কবুল করেন এবং এই আমলগুলো যথাযথভাবে সম্পাদনের তাওফিক দেন।

banner
Link copied!