রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হাদিসের কথা

যে রাতে ফেরাউন ডুবেছিল: নীল নদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সত্য ঘটনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

যে রাতে ফেরাউন ডুবেছিল: নীল নদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সত্য ঘটনা

নীল নদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া I ছবি : সংগৃহীত

ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু রাত আসে যা পুরো পৃথিবীর মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অহংকারী ফেরাউনের পতন এবং বনী ইসরায়েলের মুক্তির সেই রাতটি ছিল ঠিক তেমনই এক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী। যখন হজরত মুসা (আ.) তাঁর অনুসারীদের নিয়ে মিশরের সীমানা পেরিয়ে লোহিত সাগরের তীরে এসে পৌঁছালেন, তখন সামনে ছিল উত্তাল জলরাশি আর পেছনে ছিল ফেরাউনের বিশাল ও শক্তিশালী বাহিনী। 

নিরুপায় বনী ইসরায়েলের মনে তখন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু মুসা (আ.) আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস রেখেছিলেন।

পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই সংকটময় মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে তাঁর লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করার নির্দেশ দেন। আল্লাহর হুকুমে লোহিত সাগর দ্বিখণ্ডিত হয়ে বারোটি শুষ্ক রাস্তার সৃষ্টি হয় (সূরা আশ-শুআরা, ২৬:৬৩)। 

প্রতিটি পানির দেয়াল বিশাল পাহাড়ের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এই অবিশ্বাস্য পথ দিয়ে মুসা (আ.) এবং তাঁর কওম নিরাপদে সাগর পাড়ি দেন। আল জাজিরার ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক গবেষণায় এই এলাকাটিকে বর্তমান সুয়েজ উপসাগর বা আকাবা উপসাগরের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ফেরাউন যখন দেখল সাগর বিভক্ত হয়ে পথ তৈরি হয়েছে, তখন সে তার দম্ভ ও অহংকার নিয়ে সেই পথেই সৈন্যবাহিনীসহ নেমে পড়ে। কিন্তু তারা যখন মাঝসমুদ্রে পৌঁছাল, তখনই আল্লাহর নির্দেশে বিভক্ত পানি পুনরায় একত্রিত হতে শুরু করে। 

মুহূর্তের মধ্যে ফেরাউনের বিশাল সেনাবাহিনীসহ অহংকারী সম্রাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। মৃত্যুর সন্নিকটে পৌঁছে ফেরাউন ঈমান আনার দাবি করলেও তা কবুল হয়নি।

ফেরাউনের সেই সলিল সমাধি কেবল একটি সামরিক পরাজয় ছিল না, বরং তা ছিল সত্যের জয় এবং মিথ্যার বিনাশের এক চিরন্তন নিদর্শন। আজও ফেরাউনের সংরক্ষিত মমি পৃথিবীবাসীর জন্য এক বড় শিক্ষা হয়ে টিকে আছে। 

আল্লাহ তাআলা আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি ফেরাউনের দেহকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করবেন (সূরা ইউনুস, ১০:৯২)। সেই রাতটি আজও মুসলিম উম্মাহর কাছে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও ঈমানের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

banner
Link copied!