পরকালীন জীবন বা আখেরাত প্রতিটি মানুষের জন্য এক অনিবার্য বাস্তবতা। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দুনিয়ার এই জীবন কেবল একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র এবং মৃত্যুর মাধ্যমেই মানুষ তার চিরস্থায়ী ও আসল জীবনে প্রবেশ করে।
পরকালীন জীবনের শুরু হয় কবরের মাধ্যমে, যাকে বলা হয় `বারযাখ`। এখানে নেককার বান্দাদের জন্য শান্তি এবং গুনাহগারদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকে। মানুষের ভালো বা মন্দ কাজের ওপর ভিত্তি করেই কবরের এই পরিবেশ নির্ধারিত হয়।
কেয়ামতের ভয়াবহ প্রলয়ের পর যখন সকল মানুষকে পুনরায় জীবিত করা হবে, তখন শুরু হবে হাশরের ময়দানের বিচার। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এর ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেছেন, সেই দিনটি হবে অত্যন্ত দীর্ঘ এবং মানুষ অস্থির হয়ে নিজ নিজ আমলনামার অপেক্ষা করবে (সূরা আল-হাক্কাহ, ৬৯:১৮)।
মানুষের প্রতিটি ছোট-বড় কাজের হিসাব নেওয়া হবে এবং আমলনামা ডান বা বাম হাতে তুলে দেওয়া হবে। যাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তাদের হিসাব হবে সহজ এবং তারা হবে পরম সৌভাগ্যবান।
বিচারের পর জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা হবে। পরকালীন জীবনে মুমিনদের সর্বোচ্চ পুরস্কার হলো জান্নাত, যেখানে কোনো দুঃখ, জরা বা ক্লান্তি নেই। জান্নাতীদের জন্য থাকবে সুস্বাদু ফলমূল, নির্মল নহর এবং পরম শান্তি (সূরা আল-ওয়াকিয়াহ, ৫৬:২৭-৩৮)। অন্যদিকে, যারা অবিশ্বাসী ও পাপিষ্ঠ, তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
সেখানকার কঠিন শাস্তি ও আগুনের বর্ণনা কুরআন ও হাদিসে বারবার এসেছে যাতে মানুষ সতর্ক হতে পারে।
পরকালীন জীবনে সফল হতে হলে দুনিয়াতে ঈমান ও নেক আমলের কোনো বিকল্প নেই। নবী করীম (সা.) পরকালের পাথেয় সংগ্রহের জন্য বারবার তাকিদ দিয়েছেন। হাশরের ময়দানে মিজানের পাল্লায় আমল পরিমাপ করা এবং পুলসিরাত পার হওয়ার প্রতিটি ধাপে কেবল মানুষের আমলই তাকে সাহায্য করবে।
তাই পরকালীন জীবনের প্রস্তুতিই একজন প্রকৃত মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
