আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশের বর্তমান জনস্বাস্থ্যের সার্বিক অবক্ষয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, দেশে লিভার সিরোসিস, ক্যানসার ও বিকল কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও এক শ্রেণির মানুষ এখনো এই ক্ষতিকর অভ্যাসের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে।
তীব্র এই সামাজিক বাস্তবতায় সমাজজুড়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন নীতির কারণে বর্তমানে দেশের শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে একেবারে প্রত্যন্ত জেলা পর্যায় পর্যন্ত ব্যাঙের ছাতার মতো দ্রুত বাড়ছে ফাস্টফুডের দোকান ও ফুডকোর্ট। ঘরের পুষ্টিকর ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের পরিবর্তে কৃত্রিম কেমিক্যালযুক্ত বাইরের চর্বিযুক্ত খাবার এখন সাধারণ মানুষের কাছে অতিরিক্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতি পরিপন্থী। এমনকি ছুটির দিনগুলোতে পারিবারিক বিনোদনও এখন পুরোপুরি রেস্টুরেন্টকেন্দ্রিক বাণিজ্যিকতায় রূপ নিয়েছে বলে তিনি তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেন। মুদি দোকান ও কনফেকশনারিগুলোতে কোমল পানীয় ও ক্ষতিকর চিপসজাতীয় পণ্য এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে যা কোমলমতি শিশু-কিশোরদের দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ক্ষতি করছে।
বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিসের জন্য কোনো ফাঁকা স্লট পাওয়া যায় না, যা জনস্বাস্থ্যের চরম ভঙ্গুর অবস্থাকে নির্দেশ করে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও রাষ্ট্র এখনো সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী মানুষের এই নশ্বর শরীর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি পবিত্র আমানত, তাই এর সুরক্ষা দেওয়া সবার ধর্মীয় দায়িত্ব। দেশি মৌসুমি ফলমূল ও প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
