দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ব্যায়ামের বদলে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়াম মানুষের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমাতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর প্রায় দেড় লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর চালানো এক বিশাল গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রম কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুবিধা দেয়, বিজ্ঞানীরা এখন সেই দিকেই বেশি জোর দিচ্ছেন।
মাত্র পাঁচ মিনিটের এই সাধারণ ব্যায়াম প্রতি দশজনের মধ্যে অন্তত একজনের অকাল মৃত্যু ঠেকাতে সক্ষম।
নরওয়েজিয়ান স্কুল অব স্পোর্টের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক উলফ একেলুন্ড ফলাফলটিকে বেশ বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিটের শারীরিক পরিবর্তনের প্রভাব এত বিশাল হতে পারে, তা আগে সেভাবে ভাবা হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের ব্যায়ামের পরামর্শ দেয়। অনেকেই জিমে যেতে পারেন না বা সময়ের অভাবে রুটিন মেনে চলতে পারেন না।
তাদের জন্য এই ছোট ছোট ব্যায়াম বড় ধরনের শারীরিক পরিবর্তন আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব রোড আইল্যান্ডের কাইনেসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকোল লোগান জানিয়েছেন, শারীরিক কার্যক্রম উচ্চ মানসিক চাপ ও অবসাদ প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে। পেশি ও হাড়ের শক্তি মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার অন্যতম বড় নির্দেশক। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট বসে থাকার সময় কমালেই অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
ষাটের বেশি বয়সী যেসব মানুষ অ্যারোবিক এক্সারসাইজের সাথে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করেন, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কম থাকে। যুক্তরাজ্যের আলস্টার ইউনিভার্সিটির ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অধ্যাপক ম্যারি মার্ফি বিবিসি-কে জানিয়েছেন, ছোট ছোট ব্যায়াম আমাদের বিপাক প্রক্রিয়াকে বারবার সচল করে। ব্যায়াম থামানোর পরও শরীর যখন বিশ্রাম নেয়, তখন বিপাক প্রক্রিয়া কিছুটা দ্রুত চলতে থাকে।
এটিকে বিজ্ঞানীরা `এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং` বা ব্যায়াম স্ন্যাকিং বলছেন।
লাফবরো ইউনিভার্সিটির আচরণগত চিকিৎসা বিজ্ঞানের অধ্যাপক আমান্ডা ডেলি মনে করেন, ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা বা গন্তব্যের পাঁচ মিনিট আগে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে যাওয়া হতে পারে এর দারুণ উদাহরণ। এই পদ্ধতিগুলো দীর্ঘক্ষণ জিমে ঘাম ঝরানোর চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
নিজের পছন্দ ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী শুরুতে ধীরে শুরু করে আস্তে আস্তে ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়াতে হবে। একটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র দুই হাজার ৫১৭ থেকে দুই হাজার ৭৩৫ কদম হাঁটলেও হৃদরোগের ঝুঁকি ১১ শতাংশ কমে যায়।
